সোমবার ৩০ জানুয়ারী ২০২৩
      Beta
গ্রেপ্তার তিনজনের একজন জয়। ছবি: যমুনা টেলিভিশনের ভিডিও থেকে নেওয়া

ফ্লাইওভারে গাড়ি থামিয়ে ছিনতাই চেষ্টা, এক র‌্যাব সদস্যসহ তিনজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশের সময় : শনিবার ২১ জানুয়ারী ২০২৩ ০৮:৫২:০০ অপরাহ্ন | বাংলাদেশ

রাজধানীর মহাখালী ফ্লাইওভারে গাড়ি থামিয়ে ছিনতাই চেষ্টা’র অভিযোগে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের এক সদস্যসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে শনিবার প্রথম প্রহরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে দ্য রিপোর্ট ডট লাইভকে নিশ্চিত করেছেন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া।

শনিবার বনানী থানার ওসি গ্রেপ্তারকৃতদের একজন র‌্যাব সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তার নাম আল মোমিন। এ ব্যাপারে শনিবার দুপুরে ভুক্তভোগীদের একজন বনানী থানায় ‘ছিনতাই চেষ্টা’র একটি মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান বনানী থানার এই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

শুক্রবার মধ্যরাতে মহাখালী ফ্লাইওভারে গাড়ির গতিরোধ করে র‍্যাব পরিচয়ে দুই ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে দুষ্কৃতকারীরা। এ সময় ভুক্তভোগীদের চিৎকারে জনতা এবং ওই পথে যাওয়া একজন পুলিশ সদস্য এগিয়ে এলে পালিয়ে যায় তারা। হাতেনাতে আটক করা হয় চক্রের এক সদস্যকে। উদ্ধার করা হয় একটি অস্ত্র।

ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শহীদুল ইসলাম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনকে বলেন, ওরা আমাদের গাড়ি থামিয়ে জানালা দিয়ে পিস্তল ধরে। গাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বলে আমরা সোনা চোরাচালানকারী। আমরা বলি আমাদের চেক করে দেখেন। তখন আমাদের মারধর শুরু করে এবং বলে, গুলি করে মেরে ফেলব। তারপর হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে দেয়। এ সময় আমরা চিৎকার শুরু করি।

এ সময় গুলশান ডিপ্লোমেটিক জোনের ডিউটি শেষে সে পথেই মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন সাকিব নামে এক পুলিশ সদস্য। ভুক্তভোগীদের আকুতি শুনে তিনিও এগিয়ে আসেন সহায়তায়।

যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ সদস্য সাকিব বলেন- আমি এগিয়ে গেলে র‍্যাবের কোট পরিহিত ব্যক্তিরা আইডি কার্ড দেখায়। আইডি কার্ডের মেয়াদ ছিল না। তখন আমার সন্দেহ হয়। পরে আমাকেও তারা গাড়িতে তুলে নিয়ে যেতে চায়। একপর্যায়ে অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। সে সময় আমরা তাদের সঙ্গে থাকা একজনকে ধরে ফেলি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুষ্কৃতকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় ভুক্তোভোগীদের ভাড়া করা গাড়ির চালককে নিয়ে যায়। তবে পালিয়ে যাওয়ার সময় চক্রের এক সদস্যকে জনতা ধরে ফেলে।

যমুনা টেলিভিশনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আটক ব্যক্তি জানান, তার নাম জয়। বাড়ি দিনাজপুর। তিনি টঙ্গীতে একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করেন। তার দাবি, মমিন নামে এক র‍্যাব সদস্যের সঙ্গে মাদক সংক্রান্ত কিছু কাজে করতে গিয়ে তার পরিচয় হয়। পরে মমিন তাকে দিয়ে আরও কিছু কাজ করায়। ঘটনার দিন একটি অপারেশনের কথা বলে মহাখালী ফ্লাইওভারে নিয়ে আসেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জয় নামের ব্যক্তিটিও তাদের মারধর করেছে। পরে বনানী থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসে। তাদের চাবিতে হ্যান্ডকাফ থেকে মুক্তি মেলে ভুক্তভোগীদের। সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়।