শনিবার ১ অক্টোবর ২০২২
      Beta
গত মাসে আমরা রোহিঙ্গা সংকটের ষষ্ঠ বছরে পা দিলেও তাদের (রোহিঙ্গা) একজনকেও তাদের ঘরে ফিরে যেতে দেখিনি-শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: বিশ্বনেতাদের সহযোগিতা চেয়ে শেখ হাসিনার ৫ প্রস্তাব

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১০:৫৫:০০ অপরাহ্ন | বাংলাদেশ

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখো রোহিঙ্গাদের তাদের নিজদেশে টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে বিশ্বনেতাদের সহযোগিতা আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে পাঁচটি পদক্ষেপ নিতে তাদের প্রতি আহবান জানান।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের লোটে প্যালেস হোটেলে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই পাঁচ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব

১. রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রদান।

২. আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ এবং মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়াকে সমর্থন করাসহ আন্তর্জাতিক বিচার আদালত, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং জাতীয় আদালতের কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা করা।

৩. জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর অব্যাহত দমন-পীড়ন বন্ধে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

৪. আসিয়ানের পাঁচ-দফা ঐক্যমত মেনে চলার অঙ্গীকার পূরণে মিয়ানমারকে দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানানো।

৫. মিয়ানমার যাতে বাধাহীন মানবিক প্রবেশাধিকারে রাজি হয় সেজন্য উদ্যোগ নেওয়া।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “গত মাসে আমরা রোহিঙ্গা সংকটের ষষ্ঠ বছরে পা দিলেও তাদের (রোহিঙ্গা) একজনকেও তাদের ঘরে ফিরে যেতে দেখিনি।”

বাংলাদেশের সরকারপ্রধান মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “আরাকানে, বর্তমানে যা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য হিসেবে পরিচিত, অষ্টম শতক থেকেই রোহিঙ্গারা বসবাস করে আসছে।’ ১৯৪৮ সালে মিয়ানমার স্বাধীনতা অর্জনের পর সেখানে নতুন সরকার রোহিঙ্গাদের টার্গেট করে এবং তাদের ভিন্ন জাতিগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর ১৯৮২ সালে সেখানে নতুন নাগরিকত্ব আইন পাস হয় এবং জাতিগোষ্ঠী হিসেবে রোহিঙ্গাদেরকে তাতে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। অথচ ১৯৫২ সালে যখন ইউ নু প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখনও তার মন্ত্রিসভায় দুইজন রোহিঙ্গা মন্ত্রী এবং তখনকার পার্লামেন্টে ছয়জন রোহিঙ্গা এমপি ছিলেন।’

মিয়ানমারের ওইসব রোহিঙ্গা মন্ত্রী ও এমপিদের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ থেকে প্রমাণ হয় রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক।’

বাংলাদেশে ১২ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেওয়া এবং প্রতিবছর শরণার্থী শিবিরে ৩০ হাজার নবজাতকের জন্ম নেওয়ার তথ্যও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।