ঢাকায় নিজেদের কূটনীতিকদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়ে যা জানাল মার্কিন প্রশাসন

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মে ১৬, ২০২৩, ০৮:০৮ পিএম

ঢাকায় নিজেদের কূটনীতিকদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়ে যা জানাল মার্কিন প্রশাসন

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের দেওয়া অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। যেসব রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার বাইরে চলাচলের সময় অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন, তাদের জন্য পুলিশের পরিবর্তে এখন থেকে আনসার সদস্যদের নিয়োজিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমকে জানানোর পর এ বিষয়ে কথা বলেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ মে) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে উপপ্রধান মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল এ বিষয়ে বলেন, কূটনীতিকদের সুরক্ষা ইস্যুতে ভিয়েনা কনভেনশন মনে রাখার পাশাপাশি মার্কিন কূটনৈতিক মিশন ও কর্মীদের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে  বিদেশি কূটনীতিকদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়ে তার ওই ব্রিফিংয়ের বিস্তারিত বক্তব্য  মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল- যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ (কয়েকটি দেশের) কূটনীতিকদের অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ।পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, তারা মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাজ্যসহ অন্য প্রায় ছয় দেশের রাষ্ট্রদূতকে কোনও অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেবে না। আপনি জানেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কনভয় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এবং ২০১৮ সালে কয়েকবার সরকার-সমর্থকদের আক্রমণের শিকার হয়েছে। এমতাস্থায় বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে আপনি উদ্বিগ্ন কিনা?

জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপপ্রধান মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা এর কর্মীদের নিরাপত্তা ইস্যুতে বিশদ বিবরণে কথা বলতে চাচ্ছি না। তবে আমি উল্লেখ করতে চাই, কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিয়েনা কনভেনশন অনুসারে, যে কোনও দেশকে অবশ্যই সব কূটনৈতিক মিশন প্রাঙ্গণ ও এর কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বাধ্যবাধকতাগুলো মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি  দূতাবাসের কর্মীদের ওপর কোনও আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য কার্যকর সব পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের কূটনৈতিক কর্মী এবং স্থাপনার নিরাপত্তা ও সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ “

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ওই সাংবাদিক বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং র‌্যাবের ওপরা মার্কিন  নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে পৃথক প্রশ্ন করেন। তার প্রথম প্রশ্নটি ছিল-যুক্তরাষ্ট্রের উপ সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আক্তার সম্প্রতি বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন চূড়ান্তভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করছে। তারা অংশগ্রহণ করতে চায় বা না চাইলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে না। বিএনপি বা অন্যান্য দল নির্বাচনে অংশ না নিলে তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী মন্তব্য করবে, এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কী সুষ্ঠু হবে?

ওই সাংবাদিকের অপর প্রশ্নটি ছিল-২০০৪ এবং ২০০৫ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের শাসনামলে বাংলাদেশ ভয়ঙ্করভাবে সন্ত্রাসী হুমকির সম্মুখীন হয়েছিল। গ্লোবাল টেরোরিজম ইনডেক্স অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থানে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। এমতাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সন্ত্রাস দমনের কাজে যুক্ত থাকবে কি না এবং প্রেসিডেন্ট বাইডেনের র‌্যাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে নতুন কোনও পরিকল্পনা করছে কি না।

এর জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই উপপ্রধান মুখপাত্র বলেন, আমাকে কয়েকটি কথা বলতে হবে। প্রথমত , আপনার প্রশ্নের জন্য ঘোষণা করার মতো নতুন কোনও তথ্য আমার কাছে নেই। তাই কোনও নিষেধাজ্ঞা বা এ জাতীয় কোনো বিষয়ে কোনও নতুন খবর নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের কথা বললে আমি বলবো- গত বছর আমাদের দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করেছে। আমরা যে সম্পর্কের জন্য অপেক্ষা করছি তা হলো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী নির্বিশেষে সেই সম্পর্ককে আরও গভীর করা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় করা।

বেদান্ত প্যাটেল এসময় আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে যে কোনও নির্বাচনে আমাদের প্রত্যাশা হলো- নির্বাচন অবাধ এবং সুষ্ঠু হবে। তবে এর বাইরে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী বা এই জাতীয় কিছুর ক্ষেত্রে অন্তর্দৃষ্টি দেওয়ার মতো আর কিছুই নেই “

প্রসঙ্গত, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, যেসব রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার বাইরে চলাচলের সময় অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন, তাদের জন্য পুলিশের পরিবর্তে আনসার সদস্যদের নিয়োজিত করা হবে। অন্যদিকে, কূটনীতিকদের বাড়তি নিরাপত্তা বন্ধের সিদ্ধান্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই কূটনীতিকদের বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার কোনো আবশ্যকতা নেই।

এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের গাড়িতে পতাকা উড়ানো বন্ধের বিষয়টিও সরকার ভাবছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ঢাকায় ‍নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা চলাচলের সময় বাড়তি পুলিশি নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন।

Link copied!