এপ্রিল ১৩, ২০২২, ০৫:৫৬ পিএম
বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত প্রতিবেদনে তথ্যের গড়মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “গুম-খুনের কথা যেগুলো বলছেন, এগুলো প্রায়ই অনুসন্ধান করে আমরা দেখেছি; তারা অনেকেই হয়তো আত্মগোপন করে গুম বলে চালিয়ে দিয়েছে। হয়তো ব্যবসায়ে লস করে নিজেই কোথাও চলে গেছেন। এই কিছুদিন আগেও আপনারা দেখেছেন, এক লোক আড়াই বছর পর বলেছে ইচ্ছা করেই গুম হয়েছিলো পরিবারের অশান্তির কারণে। আমরা নিরাপত্তা বাহিনী অনেককেই খুঁজে বের করে দিয়েছি। আমি এখনো জোর গলায় বলতে পারি, যে রিপোর্টটা বের হয়েছে তাতে তথ্যের গরমিল রয়েছে।”
মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হচ্ছে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনলে তিনি বলেন, “এটা হতো তখন যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। পেছনের কথা যদি তারা বলে, এটা আমার জানা নেই। যখন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন, তখন থেকে কোনো ধরনের অন্যায়-অত্যাচার নিরাপত্তা বাহিনীর করলে তাকে কিন্তু আইনের মুখোমুখি আনা হচ্ছে। আমি সেটাই বারবার স্পষ্ট করে বলছি।”
প্রসঙ্গত, গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে গুম, হত্যা, ঘুষ, দুর্নীতি ও নিপীড়নসহ নানা ধরণের অভিযোগ থাকলেও এজন্য তাদের কোনো জবাবদিহি করতে হয় না। খুব কম সংখ্যক অভিযোগ তদন্ত ও বিচারের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সরকার।
মাকিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানে সংসদীয় গণতন্ত্রের কথা থাকলেও বর্তমানে দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ন্যস্ত রয়েছে বেশিরভাগ ক্ষমতা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জয় পেয়ে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেন শেখ হাসিনা। তবে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ি ওই নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ওই নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই, বিরোধী প্রার্থীদের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ভোটার ও পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুলিশ ও র্যাব ছাড়াও সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিবি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে থাকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরে অধীনে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরে বেসামরিক কর্তৃপক্ষ ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের ওপর নানা ধরণের নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে।