ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৪, ০১:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
উদাস মনে আছেন বা রোমান্টিক, অথবা ফুরফুরে মেজাজে।
আপনার উদাস মনকে প্রশান্তির ছোয়া দিয়ে গেছে পঙ্কজ উদাসের গান। আশি নব্বইয়ের দশক, এমনকি একবিংশ শতাতাব্দীর শুরুতেও চায়ের টং দোকানে, বাড়িতে বাড়িতে ক্যাসেট প্লেয়ার, রেডিও, দূরদর্শনে বাজতে শোনা গেছে উপমহাদেশের লিজেন্ডারি কণ্ঠ শিল্পী পঙ্কজ উদাসের গান ও গজল।
দীর্ঘ রোগভোগের পর চলে গেলেন গজল সঙ্গীতের এই প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব পঙ্কজ উদাস, বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তাঁর সঙ্গীত জীবনের বিস্তার চার দশকেরও বেশি সময়।
পরিবারের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে অত্যন্ত ভারী মনের সঙ্গে জানানো হয়, পদ্মশ্রী পঙ্কজ উদাস প্রয়াত হয়েছেন ২৬শে ফেব্রুয়ারি।
ভারতীয় সঙ্গীত জগতের আকাশের এই তারার খসে পড়া হিন্দি সিনেমা এবং ইন্ডি-পপের জগতে শূণ্যস্থান তৈরি করে গেল। লাইভ অনুষ্ঠান হোক বা অ্যালবাম কিংবা ছবির গান, আশি ও নব্বইয়ের দশকে দর্শককে মুগ্ধ করেছেন তিনি।
‘চান্দি জ্যায়সা রং’, ‘না কাজরে কি ধার’, ‘দিওয়ারো সে মিল কর রোনা’, ‘আহিস্তা’, ‘থোড়ি থোড়ি প্যার করো’, নিকলো না বেনাকাব’— পঙ্কজ উদাসের গাওয়া এই সব গজল আজও ভুলতে পারেনি শ্রোতা-দর্শকরা। ‘নশা’, ‘পয়মানা’, ‘হসরত’, ‘হামসফর’-এর মতো জনপ্রিয় অ্যালবাম রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। জগজিৎ সিং-কে বলা হয়, গজল সম্রাট। আর সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে ‘গজল কিং’ পঙ্কজ উদাস।
১৯৫১ সালের ১৭ মে গুজরাটের জেটপুরে জন্ম নেওয়া পঙ্কজ উদাস ছিলেন তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। পরিবারেই তার সংগীতে হাতেখড়ি। সংগীতের প্রতি উৎসাহ দেখে বাবা কেশুভাই তার তিন সন্তানকে রাজকোটের সংগীত অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করে দেন।
শুরুতে তবলার প্রশিক্ষণ নিলেও পরে গুলাম কাদির খানের কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নিতে শুরু করেন পঙ্কজ। পরে গোয়ালিয়র ঘরানার জনপ্রিয় শিল্পী নবরং নাগপুরকরের কাছে তালিম নিতে মুম্বাই যান পঙ্কজ।
সিনেমার গানে তার অভিষেক হয় ১৯৭২ সালে ‘কামনা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।
১৯৮০ সালে নিজের গজল অ্যালবাম ‘আহাট’ দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। এরপর একে একে ‘মুকারার’, ‘তার্রান্নুম’, ও ‘মেহফিল’-এর মতো অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন উদাস।
‘নাম’ সিনেমায় তার গাওয়া ‘চিট্ঠি আইয়ে হ্যায়’ তীব্র জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল শ্রোতাদের মাঝে। ২০০৬ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কার পান পঙ্কজ উদাস।
৭২-এ এই সুরেলা কণ্ঠের থেমে যাওয়া সঙ্গীত জগতে নামিয়ে এনেছে শোকের ছায়া।