খেই হারিয়ে বাদ সাইফুদ্দিন, কিপার কোটায় দলে লিটন!

গোলাম রাব্বানী

মে ১৪, ২০২৪, ০৯:৫৮ এএম

খেই হারিয়ে বাদ সাইফুদ্দিন, কিপার কোটায় দলে লিটন!

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও লিটন দাস

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে বাংলাদেশের ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট বলা হতো। কিন্তু জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সিরিজে তিনি সিলেক্টরদের পাশাপাশি ফ্যানদেরও হতাশ করেছেন। সাইফুদ্দিনকে সবাই ইয়র্কার বোলার হিসেবেই সবাই জেনে এসেছে। কিন্তু জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সিরিজে ৯৬টি বলে মাত্র ছয়টি ইয়র্কার করেছেন। যেখান থেকে ৩ রান ও ২ উইকেট পেয়েছেন। অর্থাৎ সাইফুদ্দিনের ইয়র্কার এখনও কার্যকরী।

একসময় সাইফুদ্দিন নিজে বলেছেন যে তিনি চাইলে ৬ বলে ছয়টা ইয়র্কার দিতে পারেন। সেখান থেকে তার এই খেই হারিয়ে ফেলায়, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভরসা রাখতে পারেননি সিলেক্টররা।

বিপিএলে শেষ দুই ম্যাচে ১৫টা ইয়র্কার চেষ্টা করছেন যেখানে আটটি ইয়র্কার হয়েছিল। বাকিগুলো ফুলটস হয়েছে। সেখানে মার খেলেও ডেথ ওভারে নিয়মিত উইকেট পেতেন তিনি। বিপিএলে ডেথ ওভারে ৭.৪৮ ইকোনমিতে ৭ উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১২.২৫ ইকনোমিতে পেয়েছেন ৩ উইকেট। সাইফুদ্দিনের এমন পতনের ফলেই সিলেক্টররা আর ভরসা রাখতে পারেননি।

এদিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লিটন দাসের ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের ফলে তাকে দল থেকে বাদ দেয়ার কথা বলেছেন অনেকে। কিন্তু বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টিতে উইকেট কিপার হিসেবে লিটন এখানে অটো চয়েজ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জাকের আলীর উইকেট কিপিং দেখে মনে হয়েছে যেন কোনো চ্যারাটি ম্যাচ হচ্ছে। একাধিক স্ট্যাম্পিং মিসের পাশাপাশি সহজ কয়েকটি ক্যাচও মিস করেছেন তিনি। তবে ব্যাটিংয়ে যে তিনি কয়েকটি ক্যামিও ইনিংস খেলতে পারেন সেই কারনে বিশ্বকাপে তার ওপর ভরসা রেখেছে সিলেক্টররা। সিরিজের শেষ ম্যাচে ১১ বলে ২৪ রান করেছেন। যেখানে দুটি ৬ হাঁকিয়েছিলেন তিনি। ফলে জাকের আলী কিপার হিসেবে নয় বরং হিটার ব্যাটার হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন।

মেহেদী হাসান মিরাজ দলে ঠাঁই পাননি। সর্বশেষ ৩ ম্যাচে কোনোটাতেই ৪ ওভার বল করেননি। সেই সঙ্গে পেয়েছেন মাত্র একটি উইকেট। মডার্ন ডেটি টোয়েন্টিতে যতটা স্কিল থাকা দরকার সেটা মেহেদী মিরাজের নেই। তবে বাংলাদেশের কোনো স্পিনারই কিন্তু এমন স্কিলফুল নয়। সেই স্থানে শেখ মাহাদী হাসান দলে ঠাঁই পেয়েছেন। তিনি কিন্তু নিউজিল্যান্ডের মাঠে ৩ ম্যাচে ৪ উইকেট পেয়েছেন। তার ইকনোমি রেটও ছিল অনেক কম। হয়ত এই কারণে ড্রপ ইন পিচের কথা বিবেচনা করেই শেখ মাহাদীকে দলে রাখা হয়েছে।

দলে আরও যারা আছেন তারা অনেকটাই প্রেডিক্টেবল। এদিকে তাসকিন ছাড়াই ৩ জন জেনুইন পেসার খেলবেন। সেই সাথে বেশ ভাল স্পিন এটাক নিচ্ছে বাংলাদেশ। যেহেতু ওয়েস্ট ইন্ডিজের পিচ কন্ডিশন একটু স্লো। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ড্রপ ইন পিচে স্পিনাররা সহায়তা পাবেন সেদিকটা বিবেচনা করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে কেমন লাগল বাংলাদেশের স্কোয়াড। মেহেদী মিরাজ ও সাইফুদ্দিনকে কি প্রকৃত অর্থেই দলে রাখা যেত?

Link copied!