সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতলো বাংলাদেশ, মিরাজ দেখালেন ম্যাজিক!

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ডিসেম্বর ৪, ২০২২, ০৭:০৯ পিএম

সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতলো বাংলাদেশ, মিরাজ দেখালেন ম্যাজিক!

মিরাজের অভিজ্ঞ ব্যাটিংয়ে ভারতের বিপক্ষে দারুণ জয় পেল বাংলাদেশের টাইগাররা। এর আগে সাকিবের বোলিংয়ে অল্প রানে আটকে গিয়েছিল ভারতের ইনিংস। এবার ৮ নাম্বারে নেমে শেষ উইকেটে মুস্তাফিজকে সঙ্গী করে ব্যাটিংয়ের নৈপুণ্য দেখিয়ে রেকর্ড জুটি গড়ে দারুণ জয় এনে দিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। নবম ব্যাটার হিসেবে হাসান মাহমুদ যখন সাজঘরে ফেরেন, তখনও জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ৫১ রান। এমন পরিস্থিতি থেকে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করে মূল্যবান ৩৮টি রান যোগ করে অসাধারণ এক জয় এনে দিলেন মিরাজ। 

রবিবার (৪ ডিসেম্বর) মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে বাংলাদেশকে মাত্র ১৮৭ রানের লক্ষ্য দেয় ভারত। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে অলআউট হয়ে এই লক্ষ্য দেয় তারা। এই সহজ লক্ষ্য টপকাতে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয় টাইগারদের। শেষ পর্যন্ত ১ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা। এই জয়ে ১-০তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

 

ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে এসে প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ। তখন ডট বলের চাপে ভালোভাবেই পড়েছিল ভারতের ওপর। সেটা থেকে বের হতে মিরাজের বলে রিভার্স সুইপ করতে যান ধাওয়ান। পায়ে বল লেগে সেটি পৌঁছে যায় তাঁর বুকে। এরপর আঘাত হানে স্টাম্পে। প্রথম উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ।

পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৪৮ রান করে ভারত। ঠিক এর পরের ওভারেই সাকিবকে বোলিংয়ে নিয়ে আসেন অধিনায়ক লিটন। দ্বিতীয় বলেই রোহিতের ব্যাট ও প্যাডের মাঝ দিয়ে তাকে বোল্ড করেন তিনি। ৩১ বলে ২৭ রান করে আউট হন ভারতীয় অধিনায়ক।

এক বল পর আরও এক উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। এবার অসাধারণ এক ক্যাচ ধরেন লিটন দাস। সাকিবের বলে ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন কোহলি। হালকা হাওয়ায় ভাসা বল অনেকটা গোলরক্ষকের মতো ঝাপিয়ে এক হাতে ধরেন এক্সট্রা কাভার অঞ্চলে দাঁড়িয়ে থাকা লিটন। ১৫ বলে ১ চারে ৯ রান করে ফিরতে হয় কোহলিকে।

এরপর শ্রেয়াস আয়ারের সঙ্গে ৪৩ রানের জুটি গড়ে তোলেন লোকেশ রাহুল। এবার আঘাত হানেন এবাদত হোসেন। ২ চারে ৩৯ বলে ২৪ রান করা আয়ারকে ফিরিয়ে ভেঙে দেন জুটি। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ভারতীয় ব্যাটার।

সাকিবের তিন নম্বর উইকেট ছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। নিজের দ্বিতীয় স্পেলে ফিরেই তিনি আউট করেন বাউন্ডারি নিয়ে ভুগতে থাকা এই ব্যাটারকে। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা এবাদত হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন কোনো বাউন্ডারি না হাঁকিয়ে ৪৩ বলে ১৯ রান করা সুন্দর।

এরপর আবারও এক ওভারে দুই উইকেট পান সাকিব। ৩৫তম ওভারে এসে শুরুতে শার্দুল ঠাকুরকে বোল্ড করেন তিনি। এরপর দ্বীপক চাহারকে ফেলেন এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফাইফার পূর্ণ হয় সাকিবের।

একপ্রান্ত আগলে লম্বা সময় ক্রিজে ছিলেন লোকেশ রাহুল। নবম ব্যাটার হিসেবে এবাদত হোসেনের বলে আউট হন তিনি। ৫ চার ও ৪ ছক্কায় দলের পক্ষে ৭০ বলে সর্বোচ্চ ৭৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

বাংলাদেশের পক্ষে ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ ৩৬ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন সাকিব। ৮ ওভার দুই বল হাত ঘুরিয়ে ৪৭ রান দিয়ে চার উইকেট পেয়েছেন এবাদতও। বাকি উইকেটটি মেহেদী হাসান মিরাজের।

Link copied!