জলবায়ু পরিবর্তন

বাংলাদেশে প্রতি সাতজনে একজন বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ১, ২০২৩, ১১:২০ পিএম

বাংলাদেশে প্রতি সাতজনে একজন বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে

বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ বাড়তে থাকলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের প্রতি সাতজনে একজন বাস্তুচ্যুত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি আমিনা জে. মোহাম্মদ।

শনিবার (১ জুলাই) রাতে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি আমিনা জে. মোহাম্মদ। রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘রোড টু সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট গোলস সামিট-২০২৩’ শীর্ষক এই সেমিনার হয়।

জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সম্মেলন হতে যাচ্ছে, সেটি আমাদের সবার জন্য একটি সন্ধিক্ষণ। কাজেই এসডিজি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশ্বের সব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব।

আমিনা জে. মোহাম্মদ বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে ফের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা দ্বিগুণ জোরদার করতে হবে। এ জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। ২০২৭ সালের মধ্যে দারিদ্র্য কমিয়ে আনতে সুনির্দিষ্ট মাপকাঠিকে কেন্দ্র করে অগ্রসর হতে হবে এবং এ সংক্রান্ত বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে জাতীয় পরিকল্পনাও থাকতে হবে। টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব রুখতে জ্বালানি রূপান্তর, শিক্ষা, ডিজিটাল রূপান্তর, চাকরি ও সামাজিক সুরক্ষার দিকে বেশি নজর দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো একটি উদাহরণ। খাদ্য ব্যবস্থা রূপান্তরে অনুপ্রেরণাদায়ক অগ্রগতি ও তা পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের কাজ আমরা উদহারণ হিসেবে দেখতে পারি।

এসব প্রচেষ্টায় জাতিসংঘের কান্ট্রি টিমের (ইউএনসিটি) সমন্বয় সহযোগিতার ওপর বাংলাদেশ ভরসা রাখতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ২৪ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত ইতালির রোমে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের ফুড সিস্টেমস স্টকটেকিং মোমেন্টে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করছি।

২০২১ সালে অনুষ্ঠিত হওয়া জাতিসংঘের ‘খাদ্য ব্যবস্থা’ সম্মেলনের পরবর্তী কর্মসূচি হচ্ছে দ্য ইউএন ফুড সিস্টেমস স্টোকটেকিং মোমেন্ট।

আমিনা জে. মোহাম্মদ বলেন, জলবায়ু পদক্ষেপ ও এসডিজি পদক্ষেপ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। দুর্ভাগ্যের বিষয়, জলবায়ুসহ বেশ কিছু এসডিজি সূচক ভুল দিক নির্দেশ করছে। মানুষের ক্ষয়ক্ষতি দ্রুতগতিতে বাড়ছে। এখন পর্যন্ত হিসাব করে দেখা গেছে, ২০৫০ সালে বাংলাদেশের প্রতি সাতজনে একজন ব্যক্তি জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়বে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেক নিম্নভূমির অঞ্চলও মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হবে।

‘কিন্তু কার্বন নির্গমন বাড়ছেই। এতে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা এক দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ছুঁতে যাচ্ছে দ্রুতই। কাজেই প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে জনসংখ্যার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ লাভবান হতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।

Link copied!