কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা পড়তে বাধ্য করা ‘সংবিধান পরিপন্থি’: টিআইবি

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ২৯, ২০২৪, ১২:০০ পিএম

কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা পড়তে বাধ্য করা ‘সংবিধান পরিপন্থি’: টিআইবি

টিআইবি

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ‘জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার’ করেছে সরকার। সেই সঙ্গে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে’র সমন্বয়কদের অবৈধভাবে তুলে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে আটকে রাখা ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা পড়তে বাধ্য করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একে ‘নিরেট মিথ্যাচার, প্রতারণামূলক ও সংবিধান পরিপন্থী’ উল্লেখ করেছে মানবাধিকার ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।

সোমবার (২৯ জুলাই) দেওয়া বিবৃতিতে আন্দোলন দমন করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিপুল প্রাণহানি, বাছবিচারহীন মামলা ও পাইকারিভাবে গ্রেপ্তারের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের বৈধতা দিতে সরকার, ক্ষমতাসীন দল ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর অসত্য বয়ানের ধারাবাহিকতায় ডিবির মিথ্যাচার যে ‘আত্মঘাতী, গণবিরোধী ও নির্মম নাটকীয়তাপূর্ণ’, সেটা উপলব্ধির আহ্বান জানায় টিআইবি।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ২০০ মামলায় ২ লাখ ১৩ হাজারের বেশি আসামি করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাইকারিভাবে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। সংঘর্ষ বা সহিংসতার সঙ্গে দূরতম সম্পর্ক না থাকা জনসাধারণকে হেনস্থাসহ গণগ্রেপ্তার ও যথেচ্ছ মামলার ঘটনাকে সংবিধান পরিপন্থী উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সহিংসতায় যুক্তদের খুঁজে বের করতে বিভিন্ন এলাকায় গ্রেপ্তার অভিযানে শুধু সহিংসতায় জড়িতদের জবাবদিহির কথা থাকলেও, গণমাধ্যম সূত্রে আমরা জানতে পারছি শিক্ষার্থী-পেশাজীবীসহ জনসাধারণকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সহিংসতার বাইরে থাকা সাধারণ মানুষ এমনকি ১৩-১৭ বছর পর্যন্ত বয়সের কিশোরকেও হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলার ঘটনাও ঘটেছে। যা সংবিধানে দেওয়া নাগরিক অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, “গ্রেপ্তারের পর উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, যা মানবাধিকারেরও নির্মম লঙ্ঘন। আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের ওপর ন্যস্ত সাংবিধানিক দায়িত্ব ও পেশাগত শপথ আরও একবার মনে করিয়ে দিয়ে বলতে চাই, আইনের রক্ষক হিসেবে নিজেদের পরিচয়ের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা থাকলে আইনের ভক্ষকের পথ থেকে বেরিয়ে এসে সাধারণ নাগরিককে হয়রানি বন্ধ করুন, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম নিপীড়ন বন্ধ করুন।”

কথিত নিরাপত্তা প্রদানের নামে আন্দোলনের সমন্বয়কদের তুলে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে আটকে রেখে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা পাঠে বাধ্য করাকে ‘অনৈতিক ও গর্হিত অপরাধ’ উল্লেখ করেছেন ইফতেখারুজ্জামান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “গণমাধ্যম সূত্র যা জানাচ্ছে তাতে এমন মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে, আন্দোলনের সমন্বয়কদেরকে মূলত তুলে নিয়ে গিয়ে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। ডিবি মিথ্যাচার করছে, জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে ও নিজেদের পেশাগত দেউলিয়াত্বের পরিচয় দিচ্ছে। তা ছাড়া, নিরাপত্তা হেফাজতের কোনও আইনি ভিত্তি নেই। শিক্ষার্থীদের তুলে নিয়ে আটকে রাখা সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একইভাবে সমন্বয়কদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা পড়তে বাধ্য করা সংবিধানের ৩৫(৪) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। মূলত আন্দোলন দমনের নজিরবিহীন বলপ্রয়োগের ঘটনাকে ঢাকতে এমন অসাংবিধানিক প্রচেষ্টার আশ্রয় নিয়েছে- এমন ধারণা হওয়া মোটেও অমূলক নয়।”

কোটা সংস্কার আন্দোলন দমন করতে গিয়ে সরকার শুরু থেকেই ইন্টারনেট বন্ধসহ বিভিন্ন জবাবদিহিহীন কার্যক্রমকে বৈধতা দিতে অসত্য বয়ান সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে বলপ্রয়োগ করে সরকারই রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ করে দিয়ে বিষয়টিকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে, সেটা স্পষ্ট। নাগরিকের সংবিধানপ্রদত্ত অধিকারকে পদদলিত করে গণগ্রেপ্তার, নির্বিচার মামলা, ব্লক রেইড, সাধারণ নাগরিককে হয়রানি ও সত্যের অপলাপ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে, জোর করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি এই জাতীয় আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড এখনই বন্ধের জোর দাবি জানাই।”

Link copied!