টানা কর্মসূচি থেকে সরে আসছে বিএনপি; লক্ষ্য তৃণমূল ও কেন্দ্র

গোলাম রাব্বানী

জুলাই ৩১, ২০২৩, ০৯:৫৭ পিএম

টানা কর্মসূচি থেকে সরে আসছে বিএনপি; লক্ষ্য তৃণমূল ও কেন্দ্র

বিএনপির লোগো

সরকারের পদত্যাগের একদফা বাস্তবায়নে টানা কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল বিএনপি ও শরিকদলগুলো। কিন্তু আপাতত টানা কর্মসূচি থেকে সরে এসে কেন্দ্র ও তৃণমূলভিত্তিক কর্মসূচি দেয়ার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। 

বিএনপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এই বিষয়টি দ্য রিপোর্ট ডট লাইভকে নিশ্চিত করেছে।

তৃণমূল ও মহানগরগুলো চাঙ্গার পরিকল্পনা

গত ২৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) মহাসমাবেশ থেকে টানা কর্মসূচির ঘোষণা দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) অনুমতি প্রদান না করায় একদিন পিছিয়ে মহাসমাবেশ করে দলটি। এদিকে মহাসমাবেশ থেকে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে অবস্থানের মতো বড় কর্মসূচি দেওয়া হলেও স্থায়ী কমিটির অনেকেই এ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। আবার মাঠ পর্যায়ে যারা বাস্তবায়ন করবে তারাও সময়মতো জানতে পারেননি। ফলে তারা প্রস্তুতি নিতে যার ফলে নতুন করে ভাবছে দলটির হাইকমান্ড। আপাতত টানা কর্মসূচি থেকে সরে এসে কেন্দ্র ও তৃণমূলে তা পালন করা হতে পারে। সরকারের পদত্যাগে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকায় টানা কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা ছিল। এখন পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ফের চূড়ান্ত কর্মসূচি প্রণয়ন করবে দলটি।

সমন্বয়হীনতা ছিল অবরোধ কর্মসূচিতে

বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে এক ধরনের অসামঞ্জস্যতা দেখা গেছে। মহাসমাবেশের পর প্রায় সবাই ছিল ক্লান্ত। এদিকে উত্তরে কোনো ধরনের অবস্থানই গড়ে তুলতে পারেনি বিএনপি। বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ডক্টর আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে অবস্থান করার কথা ছিল। এছাড়া দনিয়ায় বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য মির্জা আব্বাসও উপস্থিত হননি।

নেতাকর্মীদের অনেকের অভিযোগ, দলের হাইকমান্ড গুটিকয়েক নেতার সাথে পরামর্শ করে কর্মসূচি প্রণয়ন করেন। কিন্তু সেই কর্মসূচি যারা মাঠে বাস্তবায়ন করবে তাদের কোনো পরামর্শ নেওয়া হয়নি। শেষ রাতে কে কোথায় অবস্থান করবে সেটি জানালেও সঠিক দিক নির্দেশনা ছিল না।

বিএনপির ওয়ার্ডভিত্তিক নেতৃবৃন্দদের আগে থেকে অবগত করে দেয়া হয়নি। এমনকি জানতেন না মহানগরের অনেক নেতা। মহাসমাবেশ শুরু হওয়ার পরও কেউ পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। এত বড় কর্মসূচির আগে সিনিয়র ও মহানগর নেতাদের সাথে আলোচনা করা উচিত ছিল। স্থায়ী কমিটির কোনো কোনো সদস্যও কর্মসূচি সম্পর্কে জানত না। রাতের বেলা স্পট নির্ধারণ ও নেতারা কে কোথায় থাকবে তা চূড়ান্ত হয়। গভীর রাতে ফোন করে তাদের এ তথ্য জানানো হয়। অনেককে জানাতেও পারেননি। ফলে অনেকে স্পটে যাননি। 

Link copied!