মে ২, ২০২৩, ০৬:০০ পিএম
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও পুলিশের এই এলিট ফোর্সের বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় জঙ্গিরা উৎসাহিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হঠাৎ এই বাহিনীটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বোধগম্য নয় বলেও তিনি জানান।
যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন গণমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাতকারে বাংলাদেশের আসছে জাতীয় নির্বাচন, বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি, র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে নানা প্রশ্ন করেন সাংবাদিক শতরূপা বড়ুয়া।
গত ২৯ এপ্রিল প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ওই সাক্ষাতকার নেয় ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগ। সাক্ষাৎকারটি মঙ্গলবার (২ মে) প্রকাশ করা হয়েছে।
র্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শেই কিন্তু র্যাবের সৃষ্টি। জঙ্গিবাদ নির্মূলসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে র্যাব গঠন করা হয়েছে। তাদের ট্রেনিংসহ সবকিছুই যুক্তরাষ্ট্রের করা। কিন্তু র্যাবকে কেন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো, তা প্রশ্নবিদ্ধ। যখন একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায়, আমরা সবকিছু ঠিকমতোই চালাচ্ছি, তখন হঠাৎ করে র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বোধগম্য নয়। এতে জঙ্গিরা উৎসাহিত হয়েছে।” এ বাহিনীর প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে সবকিছুই যুক্তরাষ্ট্র করেছে বলেও তিনি জানান।
র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সরকার কী কী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “র্যাবের কোনো সদস্য অপরাধ করলে তার বিচার হয়। র্যাবের কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসি। যেটা অন্য কোনো দেশে নেই, এমনকি আমেরিকাতেও নেই। এই আইনের শাসনটা আমাদের দেশে আছে।”
র্যাবের সংস্কারে বাংলাদেশ সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, এমন প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শেই র্যাবের সৃষ্টি। তাদের ট্রেনিংসহ সবকিছুই যুক্তরাষ্ট্রের করা। কিন্তু র্যাবকে কেন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো, তা প্রশ্নবিদ্ধ। বাহিনীতে কেউ কোনো অপরাধ করলে- তাদের সঙ্গে সঙ্গে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়, যা অন্য দেশে নেই। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও নেই। তারপরও এ ধরনের ঘোষণা দুঃখজনক।”
সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে র্যাবের ভালো ভূমিকা আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “র্যাবের যেকোনো কর্মকর্তা অপরাধ করুক না কেন, শাস্তির আওতায় আনা হয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা সব সময় সচেতন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর থেকে আরও বেশি।”
এপ্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে সরকারপ্রধান বলেন, “বাংলাদেশের এক প্রতিমন্ত্রীর মেয়ের জামাই র্যাবের সদস্য থাকা অবস্থায় একটি অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিল। তাকেও সঙ্গে সঙ্গেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সে শাস্তিও পেয়েছে। বিষয়টিকে আমরা এভাবেই দেখছি। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে র্যাবের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই র্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে জঙ্গিরা আবার উৎসাহিত হয়ে গেল বলে মনে হয়। এটাই হলো বাস্তবতা।”
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাবের সাবেক এবং বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট (রাজস্ব বিভাগ) ও পররাষ্ট্র দপ্তর।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পাওয়া তালিকায় রয়েছেন র্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) খান মোহাম্মদ আজাদ, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) তোফায়েল মোস্তাফা সরোয়ার, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মো. জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মো. আনোয়ার লতিফ খান।
এছাড়া, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ রয়েছেন।