করোনাভাইরাস মহামারির প্রকোপ কমাতে সরকার ঘোষিত লকডাউন আতঙ্কে পুঁজিবাজরে বড় দরপতন হয়েছে। এক সপ্তাহের লকডাউনের আগের দিন রোববার প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স পড়েছে ১৮১ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সিএএসপিআই হারিয়েছে ৫৪২ দশমিক ০৬ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
বাজারের এই বড় ধসে দিশেহারা বিনিয়োগকারীরা। ছোট বড় সব বিনিয়োগকারীই স্তম্ভিত। লকডাউনের মধ্যে লেনদেন চললে বাজারে আরও পতনের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তারা। গত এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে রবিবার (৪ এপ্রিল)। গত বছরের ১৬ মার্চ ডিএসইএক্স কমেছিল ১৯৬ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট। রোববার এই বাজারে লেনদেন হয়েছে পাঁচশ কোটি টাকার কিছু বেশি। সরকার সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা দিয়েছে। সেইসঙ্গে ১৮ দফা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে দেশবাসীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কোভিড-১৯ এর বিস্তার কমাতে সরকার লকডাউন ঘোষণা করতে পারে- এমন আভাস কয়েকদিন ধরেই পাওয়া যাচ্ছিল। সে আতঙ্কে গত বুধবার ডিএসইএক্স কমেছিল ৮৪ পয়েন্ট; বৃহস্পতিবার কমে ৭ পয়েন্টের মতো। শনিবার দুপুরে লকডাউনের ঘোষণা দেয় সরকার। ওইদিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ ছিল। রবিবার (৫ এপ্রিল) সপ্তাহের প্রথম দিন বড় পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয় দুই বাজারে; যা শেষ অবধি অব্যাহত থাকে।
যদিও বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির পক্ষ থেকে বিনিয়োগাকরীদের ব্রোকারেজ হাউজে সরাসরি উপস্থিত না থেকে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে লেনদেন অংশগ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়। একই পরামর্শ দেয়া হয় ডিএসই ও সিএসইর পক্ষ থেকেও।কিন্ত লেনদেন শুরু হওয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যে সূচকের পতন হয় ৮৫ পয়েন্ট। আর মাত্র ১০ মিনিট সূচকের পতন হয় ১২৫ পয়েন্ট।
শীর্ষ ১০ কোম্পানিই নেই
লেনদেন শেষে দর বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ দশ কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করা হয় ডিএসই ওয়েবসাইটে। রোববার দর বৃদ্ধি পাওয়া দশ কোম্পানি না থাকায় এ সংখ্যা ছিল ছয়টি। এগুলো হচ্ছে সদ্য তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানি দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, যার শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। এছাড়া প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। ইনভয় টেক্সটাইলের শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ।
আরএকে সিরামিকের শেয়ারের দর বেড়েছে দশমিক ৭৫ শতাংশ। মতিন স্পিনিংয়ের শেয়ারের দর বেড়েছে দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দর বেড়েছে দশমিক ৪০ শতাংশ।
দিনের সর্বোচ্চ পতন ৪২ কোম্পানির
রোববার লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৪২টি কোম্পানির শেয়ারের প্রতি আগ্রহ ছিল না বিনিয়োগকারীদের। ফলে দিনের সর্বোচ্চ দর কমেছে এ কোম্পানিগুলোর। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর কমেছে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের। কোম্পানির শেয়ার দর ১১৮ টাকা থেকে ১০৩ টাকা বা ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ কমেছে। আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে দিনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। এছাড়া ডমিনেস, এসএস স্টিল, গোল্ডেনসনের শেয়ার দর দিনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কমে কমেছে। জিকিউ বলপেনের শেয়ার দর কমেছে ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ, বিডিথাই লিমিটেডের ৯ দশমকি ৯৫ শতাংশ দর কমেছে। এমনভাবে ৯ শতাংশের বেশি শেয়ারের দর কমেছে ৩৬টির। ৮ শতাংশের উপর শেয়ার দর কমেছে ৩২টির কোম্পানির।
বিশ্লেষকদের বক্তব্য
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘রোববারের বাজার নিয়ে কিছু বলতে চাই না। করোনা আতঙ্কেই মূলত এমনটি হয়েছে। আগামীতে কী হয় সেটি দেখে মন্তব্য করতে চাই।’ ডিএসই প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮১ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৩৬ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৬৬ পয়েন্টে।বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৮২ দশমিক ১৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজর ৯০১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৭টির কোম্পানির, কমেছে ২৫১টির। দর পাল্টায়নি ৬৬টির।লেনদেন হয়েছে ৫২১ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৫১ কোটি টাকা।
সূচকের বড় পতন হলেও বিক্রির চাপে লেনদেন বেড়েছে।
অপর বাজার সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৫৪২ দশমিক ০৬ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭১৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ১৩টির, কমেছে ১৮৪টির। দর বদলায়নি ১৯টির। লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা।