বিয়ে-গায়ে হলুদ ইত্যাদির মতো অনুষ্ঠানেও স্থানীয়রা এই জিলাপি পরিবেশন করে থাকেন। ছবি: দ্য রিপোর্ট ডট লাইভ
চট্টগ্রামের নাম নিলেই যাদের মনে মেজবানি গোশতের কথা ভাসে, তাদের জন্য নতুন আগ্রহ হতে পারে বিখ্যাত ‘চালের জিলাপি’। অনেক বছর ধরে তৈরি হয়ে আসা এই মজাদার খাবারের খ্যাতি এখনও সাধারণের মাঝে তেমন একটা ছড়িয়ে পড়েনি।
উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার সরকারহাট এলাকায় মূলত এই চালের জিলাপি বানানো শুরু হয়। কে বা কারা প্রথম এই জিলাপি বানানো শুরু করে তা স্থানীয়রাও সঠিক বলতে পারেননি। তবে এক ব্যবসায়ীর হাত ধরে শুরু হলেও পরে ধীরে ধীরে তা অন্য মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের মধ্যেও জনপ্রিয় হয়ে পড়ে এই চালের জিলাপি।
মূলত সরকারহাটেই এই জিলাপি বানানো শুরু হলেও এখন সরকারেরহাটের আশেপাশের এলাকা- কাটিরহাট, মণিয়াপুকুরপাড়, নাজিরহাট ইত্যাদি এলাকার ব্যবসায়ীরাও এ জিলাপি বানানোয় আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তবে সরকারহাটের জিলাপি বিক্রেতারা, তাদের হাতের চালের জিলাপিই খেতে সবচেয়ে সুস্বাদু বলে দাবি করেন।
৩০ বছর ধরে এই জিলাপি তৈরি করে আসছেন বলে জানালেন সরকারহাট এলাকার চালের জিলাপি বিক্রেতা আব্দুল হামিদ। তিনি আরও জানান, এই চালের জিলাপির আরেক নাম শাহী জিলাপি। কেজি প্রতি ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই জিলাপির দাম বাড়ানোরও চিন্তা করছেন তারা।
জিলাপি তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু মাত্র চালের গুঁড়ি ও চিনির মিক্সার দিয়ে জিলাপি বানানো হয় এবং পরে চিনির সিরাপে ডুবানো হয়।
দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের কাছে অতিথি আপ্যায়নের অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে এই বিশেষ জিলাপি। বিয়ে-গায়ে হলুদ ইত্যাদির মতো অনুষ্ঠানেও স্থানীয়রা এই জিলাপি পরিবেশন করে থাকেন। এলাকার আশেপাশে কোন ছোট-বড় মেলা বা ওরষ হলে সেখানেও এই চালের জিলাপির স্টল দেখতে পাওয়া যায়।
বিক্রেতারা জানান, মূলত ক্রেতাদের আগ্রহ দেখেই তারা এই কাজ করেন। ছোট-বড় সকলের কাছেই মজাদার এই চালের জিলাপির চাহিদা বাড়ছে।
সরকারহাটের মীর্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া রায়হান বলেন, ‘এই জিলাপি আমাদের বাড়ির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয়। বাড়ির মানুষেরা বিকালের নাস্তা হিসেবেও এই জিলাপি খেয়ে থাকেন।’
এছাড়াও সরকারহাট বাজারের যেখানে এই জিলাপি বিক্রি হয়, সেখানে আরও নানাধরনের মুখরোচক নাস্তা কিনতে পাওয়া যায়। যেমন- নোনতা বিস্কুট, খাজা, মুরালি ইত্যাদি।
এই সুস্বাদু চালের জিলাপির সুখ্যাতি আরও ছড়িয়ে যাবে বলে আশা করেন বিক্রেতাসহ এই এলাকার মানুষজন।