নভেম্বর ২১, ২০২১, ১০:৩৯ পিএম
রোগীদের অযথা পরীক্ষা না দিতে চিকিৎসকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। রবিবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যসেবায় ৬০ ভাগ টাকা রোগীর পকেট থেকে খরচ করতে হচ্ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশে রোগীদের দিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরীক্ষা করানো হচ্ছে। এতে রোগীদের খরচ বাড়ছে। তাই চিকিৎসকদের প্রতি অনুরোধ, রোগীদের অযথা পরীক্ষা দেবেন না।”
জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীরা বিনামূল্যে সেবা পান। তবুও দেশ থেকে অনেকেই বিদেশে চিকিৎসার জন্য যান। সেক্ষেত্রে দেশের তুলনায় ১০ গুণ বেশি খরচ হয়।’
‘দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন অনেক ভালো মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ হার্টের বাইপাস অপারেশন কোনো না কোনো হাসপাতালে হচ্ছে। কিডনি ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা হচ্ছে। তবে, আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও উন্নত হওয়া দরকার। ক্যানসার, কিডনি ও হার্টের চিকিৎসায় আরও উন্নতি দরকার।”
দেশের ৮টি বিভাগে বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগের কথা জানিয়ে জাহিদ মালেক আরও বলেন, “কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। এগুলোতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ক্যানসার, কিডনি ও হার্টের চিকিৎসা দেওয়া হবে। এসব হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হলে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে হবে না।”
দেশের হাসপাতালগুলোতে খরচ আরও কমানো সম্ভব উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের হাসপাতালগুলোতে যে পরিমাণ রিসোর্স থাকুক না কেন, ফান্ডিং, মেশিনারিজসহ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার যদি হয় তাহলে মনে করি খরচ অনেকাংশেই কমে আসবে।”
বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় একটু বেশি। চিকিৎসার পাশাপাশি ওষুধের দামও সেখানে বেশি হয়ে থাকে। এ বিষয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, আলোচনা করেছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ সার্বিক খরচ আলোচনার মাধ্যমে একটি সহনশীল পর্যায়ে আনা যায় কি না আমরা আলোচনা করেছি এবং পদক্ষেপ নিয়েছি।”
অনুষ্ঠানে একটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ। এসময় অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. লোকমান হোসেন মিয়া, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক সাহানারা বানু উপস্থিত ছিলেন।