শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করলে ছাড় দেবো না: প্রধানমন্ত্রী

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মে ১, ২০২৪, ১০:০৩ এএম

শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করলে ছাড় দেবো না: প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও

“কেউ যদি শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে সে যেই হোক না কেন, যত বড়ই হোক না কেন, যদি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি হলেও আমরা ছাড়ি না, ছাড়বো না।”

বুধবার (১ মে) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মে দিবসে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আলোচনা সভায় এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে, তাদের ন্যায্য পাওয়া বঞ্চিত করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে হবে, তাদের ভালোমন্দ দেখতে হবে।”

একই সময় মালিকপক্ষকে বিলাসিতা কমিয়ে শ্রমিকদের দিকে খেয়াল রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমিকদের দুঃসময়ে আওয়ামী লীগ সবসময় পাশে থাকে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছিলো বিএনপি-জামায়াত জোট। বাস-ট্রাক-ট্রেন-লঞ্চ এমন কিছু নেই যাতে আগুন দেয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত সবার পাশে দাঁড়িয়ে আমরা আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছি। বিনা খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। শ্রমিকদের কল্যাণ দেখা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।”

তিনি বলেন, “শ্রমিকরা নিরাপদে, সুষ্ঠু পরিবেশে কাজ করবে। তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। কোনো বৈষম্য থাকে না। বৈষম্যহীন একটা সমাজ আমরা চাই। এভাবে শ্রম আর মাটি, মানুষদের নিয়েই আমরা এগিয়ে যাবো, বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো।”

শেখ হাসিনা বলেন, “১৯৯৬ সালে মজুরি ৮০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা করেছিলাম। ২০০৯ সালে আমি যখন সরকার গঠন করলাম তখন দেখলাম ১ হাজার ৬৬২ টাকা মাত্র মজুরি পায়। তখন আমি নিজে মালিকদের ডেকে কথা বলেছিলাম, তখন তাদের মজুরি ১৬০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বৃদ্ধি করি। ২০১৩ সালে একই কারণে আবারও ৫ হাজার ৩০০ টাকায় উন্নীত করেছিলাম।”

বিএনপির সমালোচনা অব্যাহত রেখে তিনি আরও বলেন, “১৪ সালে ক্ষমতায় এসে আবার ৮ হাজার ৩০০ টাকায় উন্নীত করি। ২০২৩ সালে আমরা যখন মালিকদের প্রণোদনা দিয়েছি। গার্মেন্ট শ্রমিক বিশেষ ভাবে তাদের মজুরি বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে মোবাইল ফোন বা ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের হাতে দিয়েছি। আমাদের শ্রমজীবী মানুষের জন্য মজুরি আট হাজার থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত করেছি। শুধু গার্মেন্ট নয় অন্যান্য ৪২টা সেক্টরে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।”

Link copied!