সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৩, ১১:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৯৬ শতাংশ তাদের ফোন ব্যবহারের সময় গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে। নরওয়ে ভিত্তিক বহুজাতিক টেলিকম কোম্পানি টেলিনরের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণা প্রতিবেদনটির তিনটি অধ্যায়ে এশিয়ার আটটি দেশ (বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম) থেকে আট হাজারেরও বেশি ব্যক্তির তথ্য যাচাই করা হয়।
এর লক্ষ্য মূলত মোবাইল কানেক্টিভিটির প্রসঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের মনোভাব ও আচরণ বিশ্লেষণ করা এবং কিভাবে এটি এশিয়া অঞ্চলে জনগণের জীবনযাত্রা, পেশা ও বিনোদনকে প্রভাবিত করছে, তা অনুসন্ধান করা। অংশগ্রহণকারীদের লিঙ্গ ও বয়সের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এ ক্ষেত্রে ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব ব্যক্তিদের আলাদা করার পাশাপাশি জেন জি (জন্মসাল ১৯৯৭-২০১২), মিলেনিয়াল (১৯৮১-৯৬); জেন এক্স (১৯৬৫-৮০) এবং বেবি বুমারস (১৯৪৬-৬৪) এই চারটি ভিন্ন প্রজন্মের সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের আলাদা করা হয়।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের ৯১ শতাংশ গ্রাহক মনে করেন, মোবাইল ফোন তাঁদের জীবনমান উন্নত করেছে।
৭৩ শতাংশ মনে করেন, পরবর্তী ১২ থেকে ২৪ মাসে দেশে মোবাইল ফোন গ্রাহক আরো বাড়বে। বাংলাদেশি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন বেশির ভাগ সময় বিনোদনমূলক কনটেন্ট দেখে ব্যয় করলেও স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা নেওয়ার হারও বাড়ছে। বাড়ছে আর্থিক সেবা গ্রহণও। মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে ভালো জীবনের খোঁজ পাচ্ছেন এমন নারীর সংখ্যা বাড়ছে।
প্রতিবেদনে মোবাইল প্রযুক্তির পুরোপুরি ব্যবহারে তিনটি বাধার কথাও উল্লেখ করা হয়।
৬১ শতাংশ গ্রাহক মনে করেন, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ হচ্ছে প্রধান বাধা। ৬০ শতাংশ মনে করেন, দক্ষতা ও জ্ঞানের ঘাটতিও অন্যতম বাধা। আর ৪৯ শতাংশের ধারণা, প্রযুক্তির প্রতি আস্থাহীনতার কারণেও মোবাইল প্রযুক্তির পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে না।
পুরুষদের তুলনায় নারীদের জীবন মানের উন্নতি বেশি হয়েছে বলে সমীক্ষায় উঠে আসে। প্রায় ৫৯ শতাংশ নারী মনে করেন, মোবাইল ফোন তাঁদের জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। এ ক্ষেত্রে পুরুষের অনুপাত ৫০ শতাংশ। ৫১ শতাংশ নারী মনে করেন, মোবাইল ফোনের স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবা ও শিক্ষার মতো বিষয়ের অ্যাপগুলো ব্যবহার করে তাঁদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে মাত্র ৩৭ শতাংশ পুরুষ এ অ্যাপগুলোর ইতিবাচক প্রভাবের কথা বলেছেন।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ ব্যবহারকারী নিজেদের পরিবেশ সচেতন বলে দাবি করেছেন। ৭৪ শতাংশ বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারী ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, মোবাইল ফোন কাগজের ব্যবহার কমাতে এবং আরও বেশি কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনে সাহায্য করবে।
প্রায় ৪৮ শতাংশ বাংলাদেশি ব্যবহারকারী বলেন, তাঁরা সৃষ্টিশীল কাজে প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। প্রায় ৭৩ শতাংশ বাংলাদেশি মনে করেন, মোবাইল প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহার করতে না পারার কারণে তাঁদের কোম্পানির আয় বৃদ্ধির সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।
ব্যবহারকারীদের অনুসারে, বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে মোবাইল প্রযুক্তির পূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ (৬১ শতাংশ), দক্ষতা ও জ্ঞানের অভাব (৬০ শতাংশ) এবং প্রযুক্তির প্রতি আস্থার অভাব (৪৯ শতাংশ) বাধা হিসেবে কাজ করছে।