বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে ফাইজার-বায়োএনটিক ও মডার্নার পর এবার যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদন দিলো জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার। স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এই টিকার অনুমোদন দেয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বেলজিয়ামের প্রতিষ্ঠান জ্যানসেনের তৈরি এই টিকার সুবিধা হলো এটিকে ফ্রিজারে নয়, বরং সাধারণ রেফ্রিজারেটরেই সংরক্ষণ করা যাবে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই টিকাটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া ঠেকাতে পারে। তবে সাধারণ আক্রান্ত হওয়ার হার ঠেকাতে সক্ষম ৬৬ শতাংশের ক্ষেত্রে।
চলতি বছরের জুন মাস নাগাদ যুক্তরাস্ট্রকে ১০ কোটি ডোজ দিতে সম্মত হয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কানা্ডাও এই টিকার জন্য চাহিদা জানিয়েছে। পাশাপাশি আফ্রিকার বিভিন্ন েদরিদ্র দেশগুলোকে দেয়ার জন্য যে কোভ্যাক্স প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেই প্রকল্পে জনসন টিকার ৫০ কোটি ডোজ কেনার চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে।এদিকে, জনসন টিকার অনুমোদনকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, সব অিামেরিকানদের জন্য েএটা একটা চমৎকার সংবাদ এবং উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি। পাশাপাশি তিনি ’লড়াই শেষ হতে এখনও অনেক বাকি’ বলে সতক্য করেছেন বাইডেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এই টিকার অনুমোদন স্বাগত জানানোর পাশপাশি আমি সব আমেরিকানদের প্রতি অনুরোধ করবো, তারা যেনো নিয়মিত হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা আর মাস্ক পরা অব্যাহত রাখে।’
জো বাইডেন বলেন,‘ আমি আগেও অনেকবার যেমন বলেছি, ভাইরাসের নতুন ধরণের কারণে পরিস্থিতি আবারও খারাপ হয়ে উঠতে পারে এবং বর্তমান অগ্রগতি বদলে যেতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্র জরুরি প্রয়োজনে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অনুমোদন করলো এই টিকার। বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগামী জুন পর্যন্ত জনসন অ্যান্ড জনসন যুক্তরাষ্ট্রে ১০ কোটি টিকার ডোজ সরবরাহ করবে।
ইতোমধ্যে জরুরি টিকা হিসেবে যুক্তরাজ্য ৩ কোটি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০ কোটি, কানাডা ৩ কোটি ৮০ লাখ এবং কোভ্যাক্স ইনিশিয়েটিভ ৫০ কোটি ডোজ টিকার দিয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন টিকার।
ওয়ার্ল্ডওমিটারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৯ জন এখন পর্যন্ত মারা গেছেন। বিশ্বে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যাও এই দেশটিতে। এই পর্যন্ত ২ কোটি ৯২ লাখ ২ হাজার ৮২৪ জন এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটিতে এ পর্যন্ত টিকার আওতায় আনা হয়েছে ৭০ লাখ ২৮ হাজার মানুষকে। এছাড়া প্রতিদিন টিকা দেয়া হচ্ছে প্রায় ১০ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে।