মে ১৮, ২০২৩, ০২:২৬ পিএম
ফেসবুক আইডির মাধ্যমে হতাশাগ্রস্ত আর্থিক স্বচ্ছল নারী-পুরুষকে বন্ধুত্বের আহ্বান জানিয়ে আকৃষ্ট করে কৌশলে ডেকে এনে মুক্তিপণ দাবি করে একটি দল। এই দলের ফাঁদে পড়ে প্রাণ হারায় আমির হোসেন (২৫) নামের এক যুবক।
এ ঘটনায় আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ উত্তরা বিভাগ।
‘কষ্টের জীবন’ নামে ফেসবুক আইডির মাধ্যমে তারেক নামে এক ব্যক্তি বিভিন্ন নারী-পুরুষকে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করতো। সমকামিতার প্রস্তাব দিত অনেককে। তার সাথে কথা বলে প্রভাবিত হয়ে যারা দেখা করতে আসতো তাদের গাজীপুর চৌরাস্তা, শ্রীপুর বা মাওনা এলাকায় ডেকে নিয়ে কৌশলে মোবাইল, টাকা-পয়সা নিয়ে ভয় দেখিয়ে ছেড়ে দিত।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর ওই ফেসবুক আইডি থেকে আমির হোসেনকে মেসেঞ্জারে নক করে গাজীপুর চৌরাস্তায় যাওয়ার জন্য বলে। ২২ ডিসেম্বর আমির নোয়াখালী থেকে বন্ধুদের সাথে দেখা করার কথা বলে ঢাকায় আসে। দক্ষিণখানে বোনের বাসায় উঠে। তিনি গাজীপুর চৌরাস্তায় গেলে তাঁকে আটকে রেখে তাঁর বোনের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ২৮ ডিসেম্বর আমিরের মোবাইল থেকে তাঁর বোনকে ফোন করে অজ্ঞাতনামা লোকজন ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ বিষয়ে ভিকটিমের ভাই বিল্লাল (৪০) দক্ষিণখান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। প্রত্যাশিত মুক্তিপণ না পাওয়ায় ২৯ ডিসেম্বর তাঁকে মেরে বস্তাবন্দি মৃতদেহ বাসার পেছনে পরিত্যক্ত সেফটি ট্যাংকিতে লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে দক্ষিণখান থানায় এ বছরের ১৩ এপ্রিল অপহরণ মামলা রুজু করেন আমিরের ভাই বিল্লাল। মামলাটি রুজু হওয়ার পর থেকে উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম ও বিশেষ টিমের এস আই রিজিয়া সুলতানা এ ব্যাপারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা শুরু করেন।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামি আশরাফুল ইসলামকে ঢাকা জেলার সাভার জিরাবো থেকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্য মোতাবেক আরও দুইজন আসামি রাসেল সরদার ও তৌহিদুল ইসলাম বাবুকে গ্রেফতার করা হয়। তিনজনের তথ্য অনুযায়ী হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী তারেক আহাম্মেদ ও সহযোগী মোহাম্মদ হৃদয় আলীকে নোয়াখালীর দুর্গম হাতিয়া দ্বীপ থেকে গ্রেফতার করে।
পরবর্তী তারেকের বক্তব্য নিয়ে ১৭ মে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন এলাকার একটি বাড়ির পরিত্যক্ত সেফটি ট্যাঙ্কের ভিতর থেকে ভিকটিমের হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পলিথিনে মোড়ানো বস্তাবন্দি গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।