মার্চ ২৭, ২০২৩, ০৮:১৫ পিএম
রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চ সংলগ্ন মসজিদের মোড় থেকে ফুলবাড়িয়া মোড়, এদিকে রাজউকের মোড় থেকে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ভবন মোড় পর্যন্ত- এমনকি মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার থেকে নবাবপুর মোড় পর্যন্ত চারদিকে ছোট ছোট রশি দিয়ে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে আহাদ পুলিশ বক্স সংলগ্ন ট্রাফিক বিভাগ।
সোমবার বিকেল ৪টার দিকে গুলিস্থানের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এ দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়।
আহাদ পুলিশ বক্সে সামনে বাসের জন্য অপেক্ষামান যাত্রী রসূল মিয়া (৪০) দ্য রিপোর্ট ডট লাইভকে জানান, তিনি কয়েক বছর ধরে গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়ায় কাজ করছেন। রোজার মধ্যে ইফতারের আগে এরকম কোনদিনও গাড়ী সংকট দেখেননি। হঠাৎ করে ইফতারের সময় চারদিক থেকে গাড়ী আটকে পুলিশ টাকা খাওয়া শুরু করে। যারা টাকা দেয় তাদের গাড়ি ঘুরতে দেয়।”
এবিষয়ে সেখানে কর্তব্যরত সেলিম মিয়া নামে ট্রাফিক পুলিশের এক কনস্টেবলের সাথে কথা বলার সময় দেখা যায় তার পাশে আরেকজন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য (পোষাকে ব্যাচ/নাম লেখা নেই) এক ড্রাইভারের লাইসেন্স ফেরত দিচ্ছেন। আর ওই ড্রাইভার পুলিশের হাতে গুঁজে দিচ্ছেন একশ টাকার কিছু নোট।
সেলিম মিয়াকে হঠাৎ রাস্তা বন্ধ করে গাড়ি জিপিও থেকে ঘুরানোর কারণ জানতে চাইলে সে বলে আজকে চারমাস ধরে ট্রাফিকে পরিবর্তন আসছে।এটা নতুন নয়। তখন তাকে বলা হলো প্রথম রোজা থেকে শুরু হয়েছে এমন বক্তব্য আমার কাছে আছে,তখন তিনি বলেন “তাহলে বিষয়টি বলতে পারবনা। সরি, আমি আজকেই এখানে ডিউটিতে পড়েছি।”
ট্রাফিক পুলিশের সাথে গণমাধ্যমকর্মীর কথা বলতে দেখে রিয়াজ উদ্দিন বাদশা নামে এক প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মালিক এই প্রতিবেদককে বলেন,“ গণপরিবহন দূরের কথা আজ তো একটা সিএনজি, রিকশা পযন্ত আসতে দেয়নি এই সড়কে। এক ঘন্টায় দেখলাম পুলিশ টাকা দিয়ে গাড়ী ঘোরাতে দিচ্ছে সেইসব গাড়ি যেগুলো ফ্লাইওভার থেকে যাত্রী ভরে আসছে।”
এসময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এরকম সংকটের পেছনে ট্রাফিক পুলিশের সাথে হকারদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ইফতারের ঠিক ৩০ মিনিট আগে রাস্তা বন্ধ করে রাখে সিগনাল দিয়ে যাতে ভ্রাম্যমান ইফতারী/পানি বিক্রি করতে পারে। কালকে (রবিবার) বাসায় দাওয়াত ছিল। এরকম পরিস্থিতিতে কাল বাসেই ইফতার করতে হয়েছে।”