নারায়ণগঞ্জে ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে বাড়ি থেকে বোমা উদ্ধার

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ১২, ২০২১, ০৯:২০ এএম

নারায়ণগঞ্জে ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে বাড়ি থেকে বোমা উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের সাতগ্রাম ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ।রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ওই বাড়িতে অভিযান শেষে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলেন, প্রায় আড়াই ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর রবিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিয়াবাড়ি এলাকার ওই বাড়িতে অভিযান শুরু হয়। এসময় সেখান থেকে সিটিটিসির সদস্যরা ৩টি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করে সেগুলোর বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ ছাড়া ওই বাড়ি থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়।

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার আহমেদুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৭ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে রবিবার (১১ জুলাই) বিকেলে আড়াইহাজারের মিয়াবাড়ি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, বোমাটি আড়াইহাজারের এ বাড়িতে তৈরি করা হয়েছিল।’

এর আগে, সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রহমত উল্লাহ চৌধুরী সুমন গণমাধ্যমকে জানান, রবিবার রাজধানী ঢাকা থেকে ‘আব্দুল্লাহ আল মামুন’ নামে এক জঙ্গিকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আড়াইহাজার থানাধীন নোয়াগাঁও এলাকার মিয়া বাড়ির ওই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হয়।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, মামুন নোয়াগাঁও এলাকার একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ইমামতির আড়ালে তিনি বোমা তৈরির একটি কারখানা গড়ে তুলেছেন। তার ওই আস্তানা থেকে তৈরি করা বোমা গত ১৯ মে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

আরেকটি বাড়ি থেকে বোমা সরঞ্জাম উদ্ধার:

আড়াইহাজারের সাতগ্রাম ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকার ওই বাড়িতে অভিযান  চালানো শেষে বন্দর উপজেলার মদনপুরের কাজীপাড়ায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে আরেকটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এ অভিযানে প্রচুর জিহাদি বই, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, রিমোট কন্ট্রোল উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২টা ৫০ মিনিটের দিকে অভিযান শুরু হয়।

অভিযান শেষে সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের একটি টিম ৩ দিন আগে বামসি বারেক ওরফে সাব্বিরসহ ৩ জঙ্গিকে মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করে। বারেকের তথ্য অনুযায়ী আমাদের একটি টিম আজ রোববার (১১ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে কেরানীগঞ্জ থেকে মেজর ওসামা ওরফে নাইমকে গ্রেপ্তার করে। নাইম জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তিনি নব্য জেএমবির সদস্য। তিনি বোমা বানান এবং বোমা তৈরির প্রশিক্ষকও বটে। সে এখানে পার্শ্ববর্তী মসজিদে ইমামতি করতেন।’

সিটিটিসি প্রধান আরও বলেন, ‘যে বাসা থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছি সেই বাসায় সপরিবারে থাকতেন নাইম। কয়েকদিন আগে তার পরিবারকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন এবং একা একা বোমা তৈরির সরঞ্জাম নিয়ে বোমা তৈরি করছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘এই অভিযানে কোনো কমপ্লিট বোমা পাইনি। বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও ৪টি রিমোট পেয়েছি। এখান থেকে শক্তিশালী আইইডি বোমা তৈরির সামগ্রী পেয়েছি।’

Link copied!