বস্তিবাসীর বিনামূল্যের ফ্ল্যাটে মাসিক খরচ পড়বে দশ হাজার টাকা!

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ১২, ২০২১, ০৭:৫১ পিএম

বস্তিবাসীর বিনামূল্যের ফ্ল্যাটে মাসিক খরচ পড়বে দশ হাজার টাকা!

‘বলা হয়েছিলো পুনর্বাসন করা হবে, এখন দেখি ভাড়া দিয়া থাকতে হবে। তাও আবার সারাজীবন। মূল ভাড়া সাড়ে ৪ হাজার টাকা, অন্যান্য খরচ মিলে নাকি দিতে হবে ১০ হাজার টাকা। এত টাকা দিয়ে আমাদের পক্ষে কি থাকা সম্ভব বলেন?’

ফ্ল্যাটের ভাড়ার ব্যাপারে এমন অভিযোগ করলেন মিরপুরের বাউনিয়াবাদ বস্তির বাসিন্দা ঝর্না আক্তার।

ঝর্না আক্তারের মতো একই অভিযোগ করলেন নাসরিন জাহান। তিনি বলেন, ‘আমাদের যখন ওইখান থেকে উচ্ছেদ করা হয় তখন বলে যে আমাদের প্রত্যেককে একটা করে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। এখন বলতেছে প্রতিমাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হবে, অন্যান্য খরচ তো আছেই। আমরা দিন আনি দিন খাই, আমদের পক্ষে কি এতো টাকা দেওয়া সম্ভব!’

ছবি: দ্য রিপোর্ট/ তৌফিক হাসান।

শুধু বাউনিয়াবাদ বস্তি নয়, কলাবাগান বস্তিবাসীদেরও একই ধরনের অভিযোগ। এই ভাড়া তাদের জন্য একটি বড় ধরনের দুর্ভোগ। প্রতিমাসে এদের কারো পক্ষেই এত ভাড়া দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালেন তারা। এই বিষয়ে দ্য রিপোর্টের সঙ্গে আলাপকালে কলাবাগান বস্তির দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যান নাইম বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ, আমাদের পক্ষে সাড়ে ৪ হাজার টাকা ভাড়া দেওয়াই সম্ভব না। আর ফ্ল্যাট দেওয়ার আগে আমরা জানতাম বিনাভাড়ায় পুনর্বাসন করা হবে, এখন আমাদের বলতেছে ভাড়া দিতে হবে। সাথে রয়েছে অন্যান্য খরচ। আমরা যদি এত টাকা দিতে পারতাম তবে কি বস্তিতে থাকতাম।’

মিরপুরের বাউনিয়াবাদ ও কলাবাগানের বস্তিবাসীদের জন্য বাউনিয়া বাঁধের সুইসগেট গেট এলাকায় ১৪ তলা বিশিষ্ট পাঁচটি ভবন নির্মাণ করেছে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে তিনটি ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এই তিনটি ভবনে ফ্ল্যাট রয়েছে ৩০০টি। এসব ফ্ল্যাটে, এই দুই বস্তিতে থাকা ৩০০ জনকে ভাড়ায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুই রুম বিশিষ্ট এই ফ্ল্যাটগুলোর আয়তন ৬৭৩ বর্গফুট।

এই পাঁচটি ভবনের মধ্যে তিনটি ভবনের কাজ প্রায় শেষ। এখন ভেতরে টাইলস বসানো ও দেয়ালে রং করার কাজ চলছে। এ ছাড়া লিফট বসানোর কাজও বাকি আছে। আর দুটি ভবনের মূল অবকাঠামো নির্মাণের কাজ পুরো শেষ হয়েছে। 

ছবি: দ্য রিপোর্ট/ তৌফিক হাসান।

প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য সরকার ভাড়া নেবে মাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। তবে এই ভাড়ার সঙ্গে যোগ হবে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সেবার খরচও (ইউটিলিটি বিল)। বস্তিবাসীদের ভাষ্যমতে, এই খরচ গিয়ে পরবে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। ভাড়ার সঙ্গে অন্যান্য খরচ যোগ করা নিয়েই মূল আপত্তি ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়া বস্তির মানুষদের।

প্রথম তিনটি ভবনের নির্মাণকাজ শেষের পর ফ্ল্যাটের বরাদ্দ দিয়েছে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। ভবন নির্মাণের জন্য বস্তির যেসব বাসিন্দা উচ্ছেদ হয়েছেন, তারা ফ্ল্যাট বরাদ্দের তালিকায় অগ্রাধিকার পেয়েছে বলে জানায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। তালিকা তৈরির কাজে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহায়তা নিয়েছে। গত ৩ আগস্ট এই ফ্ল্যাট প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৩০০ বস্তিবাসীর হাতে ভাড়াপত্রসহ ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেছে।

তবে ভাড়া বেশির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাতীয় গৃহায়ন অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী জোয়ারদার তাবেদুন নবী। তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেন, ’আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা নির্ধারন করেছি। এটাই মূল ভাড়া। আর যে খরচের কথা বলা হয়েছে সেটি নির্ধারণ করবে তাদের কমিটি। আর এখানে এতগুলো পরিবার থাকবে, সেই জায়গায় এতো খরচ হবে না। হলে সর্বোচ্চ ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।’

Link copied!