সনাতন ধর্মালম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসবের আজ শেষ দিন- বিজয়া দশমী। এই দশমীর সিঁদুর খেলা ও বিসর্জনের বিষাদ নিয়ে ছলছল চোখে আজ (৫ অক্টোবর) দুর্গা দেবীকে বিদায় জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বিদায় বেলা সমকণ্ঠে ‘জয়, দুর্গা মায়ের জয়’ বলতে বলতে প্রতিমা বিসর্জন দেবেন অনেকে। এ সময় অনেকে শেষবার প্রণাম করবেন দুর্গা দেবীকে। মনের আশা পুরণের জন্য অনেকেই তার শাড়ীর আঁচলে গুঁজে দেবেন চিঠি।
প্রতি বছর কৈলাস থেকে বাপের বাড়িতে বেড়াতে আসেন মা দুর্গা। সঙ্গে থাকেন তার সন্তানেরা-ছেলে গনেশ ও কার্ত্তিক এবং মেয়ে স্বরসতী ও লক্ষ্মী। এবার দুর্গা সন্তানদের সবাইকে নিয়ে হাতিতে চড়ে এসেছেন ধরণীতে। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মনে করে থাকেন, দেবী দুর্গা যখন হাতিতে চড়ে আসেন তখন সমৃদ্ধি, সুখ নিয়েই আসেন। তারা আরও মনে করেন, মায়ের আগমনে যেসকল ভক্ত মাকে মন থেকে ডাকবেন, মা তাদের মনের কথা শুনবেন এবং তাদের উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে মা দেখবেন। মায়ের অশেষ কৃপায় তাঁদের জীবনে অনেক উন্নতি হবে।
চারদিন বাপের বাড়িতে থেকে আজ নৌকায় চড়ে শ্বশুরবড়ি কৈলাসের দিকে যাত্রা শুরু করবেন। তার নৌকায় বিদায় নেওয়ার অর্থ-জগতের কল্যাণ সাধিত হবে। ‘বাবার বাড়ি বেড়ানো’ শেষে মা দুর্গা এক বছরের জন্য ফিরে যাবেন ‘কৈলাসের শ্বশুরালয়ে’। আর এর মধ্য দিয়েই শেষ হবে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় পার্বণ ‘শারদীয় দুর্গোৎসব।’
প্রসঙ্গত,গত ১ অক্টোবর ৬ষ্ঠী পূজার মাধ্যমে দুর্গা পূজা শুরু হয়। রবিবার ছিল মহাসপ্তমী ও সোমবার মহাঅষ্টমী। গতকাল মঙ্গলবার ছিল নবমীর আনুষ্ঠানিকতা। পুরোহিতদের মতে, মহানবমীতে ভক্তদের দেওয়া ষোড়শ উপাচারের সঙ্গে ১০৮টি নীলপদ্মে পূজা হয় দেবী দুর্গার। এ ছাড়া নীলকণ্ঠ, নীল অপরাজিতা ফুল ও যজ্ঞের মাধ্যমে মহানবমীর বিহিত পূজা হয় মঙ্গলবার। নবমীর দিনে যজ্ঞের মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে আহুতি দেওয়া হয়। ১০৮টি বেল পাতা, আম কাঠ ও ঘি দিয়ে এই যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের মধ্যে পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন হবে। সন্ধ্যা-আরাত্রিকের পর প্রতিমা বিসর্জন ও শান্তিজল গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসবের সব আয়োজন।
প্রসঙ্গত, এ বছর সারাদেশের ৩২ হাজার ১৬৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপন করা হচ্ছে। গত বছর সারাদেশের পূজামণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ১১৮টি। আর ঢাকা মহানগরে মণ্ডপের সংখ্যা ২৪১টি; যা গত বছরের থেকে ছয়টি বেশি।