জুন ২৮, ২০২২, ১০:১৯ এএম
একাত্তর পরবর্তি সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের(জাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদারের শাস্তি দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশের সংগঠন সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ।
সংগঠনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ জুন শুক্রবার সিনেট সভায় একজন মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকের অবসরের বয়সসীমা ১ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার। সেসময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের লুটতরাজকারী ও নারী নিপীড়নকারী বলেও মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই ধৃষ্টতামূলক মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন একাডেমিক এবং প্রশাসনিক পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন। এ ঘটনার সঠিক বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে এটি দেশবাসীর পবিত্র চেতনায় চরম আঘাত বলে প্রতীয়মান হবে। বিবৃতিতে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও এ ঘটনাটি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আব্দুল জব্বার হাওলাদারের স্বাক্ষর করা বিবৃতিতে বলা হয়, অধিবেশনে বেশিরভাগ সিনেট সদস্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেনের চাকরির বয়স ১ বছর বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন অধ্যাপক অজিত। তিনি এবং কয়েকজন শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকদের বয়সসীমা সরকার নির্ধারিত ৬৫ বছরেই রাখার পক্ষেই মত দেন। সভায় কোন সিদ্ধান্ত না হলে পরে সর্বসম্মতিক্রমে এ বিষয়টি সুরাহার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যপন্থি শিক্ষক হিসেবে পরিচিত এবং আওয়ামী লীগের শিক্ষকদের একাংশের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদে’র সভাপতি । এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেনের অবসরের বয়স এক বছর বাড়িয়ে চিঠি দিয়ে পরে তা বাতিলের চেষ্টা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তারা অভিযোগ করেন, উপাচার্য পদে কে আসবেন এমন হিসাবনিকাশ মেলাতে গিয়ে অধ্যাপক আমিরকে অবসরে পাঠানোর জন্যই এই আয়োজন।