গণতন্ত্র নয়, আফগানিস্তান চলবে শরিয়া আইনে। ইসলামী শরিয়া মোতাবেক দেশটি পরিচালনা করবে শরিয়া কাউন্সিল। তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হায়বাতুল্লাহ আখুনজাদা এই কাউন্সিলের সম্ভাব্য প্রধান হতে চলেছেন বলে খবর দিয়েছে ডয়েচে ভেলে।
দেশটির রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের দিকে এগোচ্ছে তালেবান। ইতোমধ্যে তারা সরকারের কাঠামো কেমন হবে তা নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
ওয়াহিদুল্লাহ হাশিমি নামে তালেবানের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা ডয়েচে ভেলে’কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে জানান, তালেবান কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে সেবিষয়ে এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া বাকী। তবে আফগানিস্তানে কোন গণতন্ত্র থাকবে না।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘এটি নিয়ে আর কোন আলোচনার দরকার নেই যে, দেশ পরিচালনায় কোন ধরণের রাজনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেননা এটি নিশ্চিত হয়ে গেছে আফগানিস্তান অবশ্যই শরিয়া আইন অনুসরণ করবে।কেন তারা গণতন্ত্র অনুসরণ করবেন না এমন প্রশ্নের জবাবে হাশিমি জানান, ‘আমাদের দেশে গণতন্ত্রের কোন ভিত্তি নেই।’
আফগানিস্তান প্রশাসনে ক্ষমতা কাঠামো কেমন হতে পারে সেব্যাপারে একটি রূপরেখা হাজির করেছেন ওয়াহিদুল্লাহ হাশিমি। তার এই রূপরেখার সাথে ১৯৯৬ সালে গঠিত তালেবান সরকারের বেশ মিল রয়েছে। আগের সরকারে একটি কাউন্সিলের কাছে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে তৎকালীন তালেবান প্রধান মোল্লা ওমর ছিলেন নেপথ্যে। এই সরকারে বর্তমান তালেবান প্রধান হায়বাতুল্লাহ আখুনজাদে হবেন কাউন্সিলের প্রধান যা অনেকটা প্রেসিডেন্টের দায়িত্বের মতো। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আখুনজাদা ডেপুটি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, আখুনজাদার তিনজন ডেপুটি আছে। তাঁরা হলেন, তালেবান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের পুত্র মৌলভী ইয়াকুব, তালেবানের অংশীদার হাক্কানী নেটওয়ার্কের নেতা সিরাজুদ্দিন হাক্কানি এবং তালেবানের কাতারের রাজনৈতিক অফিসের প্রধান এবং তালেবানের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আব্দুল গণি বারদার।
সূত্র: দ্যা হিন্দু/ ডয়েচে ভেলে