যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ডেস্টিন এবং হেন্ডারসন বিচ স্টেট পার্কের পাশে দেখা গেছে আকাশে উঠে যাওয়া এক বিশাল জলস্তম্ভ। মঙ্গলবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই দৃশ্যটি মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
যদিও ফ্লোরিডায় সচরাচর এমন জলস্তম্ভ দেখা যায়। ওই এলাকাটি বিশ্বের জলস্তম্ভের ‘হট স্পট’। অঞ্চলটিতে বছরে ৪০০-৫০০টি জলস্তম্ভ দেখা যায়। জলস্তম্ভকে বিশেষজ্ঞরা ‘জলজ টর্নেডো’ও বলে থাকেন।
ভিডিওতে দেখা গেছে, ডেস্টিনের সমুদ্র সৈকতে মেঘ থেকে একটি বিশাল টর্নেডোর মতো ফানেল সমুদ্র এবং আকাশকে সংযুক্ত করেছে। জানা গেছে, এ ঘটনার পর সেখানে তাৎক্ষণিক সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
জলস্তম্ভ আসলে কী?
দর্শনীয় কিন্তু বিপজ্জনক এই প্রাকৃতিক ঘটনাটি হলো জলের উপর তৈরি একটি ঘূর্ণি বায়ুর ছোট-ব্যাসের টর্নেডো-সদৃশ স্তম্ভ। সাধারণত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং উপক্রান্তীয় অঞ্চলে এমন টর্নেডোর দেখা মেলে। সংক্ষেপে বললে, টর্নেডো যদি জল ভাগের উপর সৃষ্টি হয় তাহলে পানি টর্নেডোর চোঙ বেয়ে উপরে উঠে যে স্তম্ভ তৈরি করে সেটিই জলজ টর্নেডো বা জলস্তম্ভ।
স্থলভাগের টর্নেডো যখন জলরাশিকে স্পর্শ করে, তখন প্রবল ঘূর্ণিবায়ুর টানে ফানেলাকৃতি নিয়ে পানি উঠে যায় মেঘের দিকে, যা অনেকটা হাতির শুঁড়ের মত দেখায়। ইংরেজিতে একে বলে ‘ওয়াটারস্পাউট’।
আবহাওয়াবিদদের মতে, যেখানে বায়ুমণ্ডলের চাপ কম ও তাপমাত্রা বেশি থাকে, সেখানে শূন্যস্থানের সৃষ্টি হয়। এ সময় চারদিক থেকে আসা বাতাসের কারণে ওই স্থানে ঘূর্ণনের সৃষ্টি হয়। প্রবল বেগে মেঘের সঙ্গে বাতাস নিচের দিকে নামতে থাকে। তখন দেখতে অনেকটা ফানেলের মতো লাগে। এটাই টর্নেডো। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এ রকম ঘটনা ঘটছে।
এরকম ওয়াটারস্পাউট তৈরি হলে পানিসহ আশপাশে যা থাকে, সব ঊর্ধ্বমুখী হয়। সেই হাতির শুঁড় হয়ত বেশ খানিকটা পথ পানির ওপর দিয়ে এগিয়েও যায় টর্নেডোর টানে। কিছু সময় পরে হয়ত জলস্তম্ভ ভেঙে পড়ে।
ওই ঘূর্ণিচক্রের মধ্যে বাতাস গরম থাকে বলে আশপাশের বৃষ্টির পানিও তুলনামুলক গরম থাকতে পারে। ওয়াটারস্পাউটের সঙ্গে উপরে উঠে যাওয়া মাছ বা অন্য যে কোনো বস্তু তখন নিচে পড়তে পারে।