দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। গতকাল শনিবার প্রধান বিচারপতি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
রোববার (১১ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে তার শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিক্ষা চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি তোলেন।
সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার বলেন, “আমরা আগামীকাল সকাল নয়টা পর্যন্ত সময় দিলাম। এর মধ্যে প্রধান বিচারপতি হিসেবে সৈয়দ রিফাত আহমেদকে নিয়োগ না দিলে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।”
এর আগে শনিবার দুপুরে পদত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। পদত্যাগের কারণ হিসেবে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান উল্লেখ বরেন, “সুপ্রিম কোর্ট বিল্ডিং ও এর রেকর্ডগুলো এবং কোর্ট প্রাঙ্গণ, বিচারপতিদের ঘরবাড়ি, জাজেজ টাওয়ার, বিচারপতিদেরকে শারীরিক হেনস্থা এবং সর্বোপরি জেলা জজ কোর্টগুলো ও রেকর্ড রুম রক্ষার স্বার্থে আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হলো।” একই দিন সকালে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের জন্য আল্টিমেটামও দেন। এরপরই তিনি পদত্যাগ করেন।
নতুন প্রধান বিচারপতির সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জী
১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্ম সৈয়দ রেফাত আহমেদের। ১৯৮৪ সালে জেলা আদালত, ১৯৮৬ সালে হাইকোর্ট ও ২০০২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন তিনি।
২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে নিয়োগ পান। ২ বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হন।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, ভারত, পাকিস্তান, আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ নানা দেশে ভ্রমণ করেছেন তিনি।