জামায়াতের দাবি জাপা নিষিদ্ধ, এনসিপির দাবি কার্যক্রম স্থগিত

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ৩১, ২০২৫, ০৯:৩৭ পিএম

জামায়াতের দাবি জাপা নিষিদ্ধ, এনসিপির দাবি কার্যক্রম স্থগিত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আলাদাভাবে সরকারকে জাপার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত থাকার প্রেক্ষাপটে দুটি দলই একই ধরনের অবস্থান প্রকাশ করেছে।

রবিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াত নেতারা জাপার রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।

জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, জাতীয় পার্টি সবসময় ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সহযোগী ছিল। যেভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, একইভাবে জাপাকেও নিষিদ্ধ করা উচিত।

এরপর এনসিপির নেতারাও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে জাপার সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিতের দাবি জানান। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও আহত ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। শহীদ পরিবার তাদের দাবিতে মাঠে নামলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। আমরা সরকারের কাছে শহীদ পরিবার ও আহতদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছি।

এনসিপির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।

এনসিপি ও জামায়াত ছাড়াও সেদিন রাতে বিএনপি নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা, যেখানে আসন্ন নির্বাচন ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

জামায়াতের দাবিজাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ করতে হবে, আর এনসিপির দাবিতাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে। এই দুই দাবিই অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর জাপার রাজনৈতিক ভূমিকা সীমিত করার চাপ বাড়াচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে জাপা নিষিদ্ধের দাবিতে গণঅধিকার পরিষদ এক মশাল মিছিল বের করলে রাজধানীর কাকরাইলে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় জাপা ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হস্তক্ষেপ করে এবং পুলিশ ও সেনাসদস্যরা লাঠিচার্জ চালায়। এতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হন। দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ শতাধিক নেতাকর্মীকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

Link copied!