ডাকসু নির্বাচন

প্রতিরোধ পর্ষদের ১৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ৩১, ২০২৫, ০৬:৫৮ পিএম

প্রতিরোধ পর্ষদের ১৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ১৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাম ধারার সাত ছাত্র সংগঠনের প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’, সেখানে প্রথম বর্ষ থেকেই প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে হলে আসন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া গণরুম-গেস্টরুম ও র‍্যাগিং নিষিদ্ধ করে ক্যাম্পাস চার্টার প্রকাশ করা কথা বলা হয়েছে তাদের ইশতেহারে।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের পাশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরোধ পর্ষদের ইশতেহার তুলে ধরেন এ প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী মেঘমল্লার বসু।

তাদের এ ইশতেহারে ১৮টি বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে, সেখানে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ নির্বাচনের তারিখ সুনিদির্ষ্ট করা এবং গবেষণা খাতে অন্তত ১০ ভাগ বরাদ্দ দেওয়ার কথা রয়েছে।

পাহাড় ও সমতলে সকল জাতিসত্তার ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা ও সকল জাতিগোষ্ঠীর সমমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করার প্রতিশ্রতি দিয়েছে প্রতিরোধ পর্ষদ।

প্যানেলটির ১৮ দফা প্রতিশ্রুতি হল-

১. ডাকসুর কাঠামোর সংস্কার ও ক্ষমতা বৃদ্ধি

>> অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে কেন্দ্রীয় এবং হল সংসদ নির্বাচনের তারিখ সুনির্দিষ্টকরণ, সিনেটের কোরাম পূর্ণ করতে ন্যূনতম দুজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা রেখে ৭৩ সালের অধ্যাদেশ সংশোধনকরণ সিনেটে পাঁচজন নয়, ন্যূনতম ১০ জন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি রাখার বিধান যুক্ত করা।

২. শিক্ষার্থীদের ক্ষমতায়ন করে শিক্ষার মানোন্নয়ন

>> ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ-বেসরকারিকরণ-সংকোচন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে গৃহীত ইউজিসির কৌশলপত্র বাতিল করা।

৩. গবেষণায় অগ্রাধিকার

>> বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটের অন্তত ১০ ভাগ গবেষণা খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিটি গবেষণাগার আধুনিকায়নের ব্যবস্থা করা।

৪. আবাসন সংকট নিরসন

>> সকল হলে সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব বন্ধ করা। পুরনো ভবনগুলোর সংস্কার, সম্প্রসারণ এবং নতুন ভবন নির্মাণ করতে প্রশাসনকে বাধ্য করা।

>> প্রথম বর্ষ থেকেই প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সিট নিশ্চিত করা।

>> গণরুম, গেস্টরুম ও র‍্যাগিং প্রথা নিষিদ্ধ করে ক্যাম্পাস চার্টার প্রকাশ।

>> হলগুলোতে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা কার্যকর থাকা নিশ্চিত করা।

৫. নারীবান্ধব ক্যাম্পাস

>> প্রতিটি ফ্যাকাল্টি, নারী হল ও বিভাগগুলোতে কার্যকরী ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন। নারী হলে ‘স্থানীয় অভিভাবক’ নামের হয়রানি নির্মূলসহ হলের যাবতীয় হয়রানিমূলক নিয়মকানুনের অবসান ঘটানো।

>> নারীদের হলে প্রবেশের সময়সীমা প্রত্যাহার করা। হলে আবাসিক-অনাবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

৬. সকল জাতিসত্তার অধিকার নিশ্চিতকরণ

>> পাহাড় ও সমতলে সকল জাতিসত্তার ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা।

>> সকল জাতিগোষ্ঠীর সমমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।

৭. খাদ্য এবং পুষ্টিমান সুরক্ষা

>> হলগুলোত ব্যক্তিমালিকাধীন ক্যান্টিন নয়, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ক্যাফেটেরিয়া চালু করা।

৮. শারিরীক স্বাস্থ্য সুরক্ষা

>> শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারকে আধুনিক এবং ন্যূনতম ১০০ শয্যায় উন্নীত করা।

৯. মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা

>> মেডিকেল সেন্টারের আওতায় ‘মেন্টাল হেলথ সাপোর্ট সেন্টার’ গড়ে তোলা এবং অনলাইন-অফলাইনে সেবা প্রদান করা।

>> মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। স্বাস্থ্যবিধি, পুষ্টি, ব্যায়াম এবং মানসিক প্রশান্তি বিষয়ে কর্মশালার আয়োজন করা।

১০. লাইব্রেরি, সেমিনার, রিডিংরুম ও কমনরুম

>> কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সার্বক্ষণিক উন্মুক্ত রাখা। নতুন লাইব্রেরি ভবন নির্মাণ এবং ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা।

১১. প্রকাশনা সংস্থাকে সচল করা

>> বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থাকে সচল করা এবং নিয়মিত বিভিন্ন বই ও গবেষণাপত্র প্রকাশ করা।

>> মাতৃভাষায় উচ্চ শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ সূচনা করা।

১২. মুক্ত পরিসর পুনরুদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণ

>> বিশ্ববিদ্যালয়ের বেহাত হওয়া জমি পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা।

১৩. সাহিত্য এবং সংস্কৃতি

>> হল-অনুষদে নিয়মিত সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক আড্ডার আয়োজন করা।

>> সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করা। প্রতিবছর ঐতিহ্যবাহী লোক উৎসবের আয়োজন করা।

>> ভিন্ন ভিন্ন জাতিসত্ত্বার মানুষদের সংস্কৃতি তুলে ধরে সাংস্কৃতিক আয়োজন করা।

১৪. পরিবহন

>> বিআরটিসি থেকে ভাড়াভিত্তিক নয়, নিজস্ব অর্থায়নে বাস কেনা।

১৫. ক্রীড়া

>> বার্ষিক ‘স্পোর্টস ক্যালেন্ডার’ তৈরি করা যা অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের সাথে সমন্বিত হবে।

>> খেলার মাঠ নারীবান্ধব করা।

১৬. পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষা

১৭. গণতন্ত্র, স্বায়ত্তশাসন ও মতপ্রকাশের অধিকার

>> ৭৩ সালের অধ্যাদেশের অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল করে পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসন এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। প্রশাসনিক এবং অ্যাকাডেমিক কোনো কাজেই রাষ্ট্র-সরকারের হস্তক্ষেপ চলবে না।

১৮. মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলন

>> মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে আর্কাইভ প্রতিষ্ঠা, গবেষণা বৃত্তি নিশ্চিত এবং ত্রৈমাসিক প্রকাশনা বের করা।

Link copied!