মে ১১, ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
নগর ভবন অডিটরিয়ামে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। ছবি: ডিএসসিসির সৌজন্যে।
রাজধানীর বাসাবাড়ি থেকে নির্ধারিত টাকার বেশি বর্জ্য সংগ্রহ বিল আদায় এবং নিয়মিত ময়লা অপসারণে গাফিলতি করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। অভিযোগ প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিলেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার নগর ভবনের অডিটরিয়ামে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ সতর্কবার্তা দেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
সভায় তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে— অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি টাকা নিচ্ছে এবং প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন সংগ্রহ করছে না। এতে নাগরিকদের ভোগান্তি বাড়ছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, প্রতি বাসা বা ফ্ল্যাট থেকে মাসিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত বর্জ্য বিল নেওয়া যাবে এবং তা অবশ্যই নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে আদায় করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “দিনের বর্জ্য দিনেই অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো এলাকায় ময়লা জমে থাকা বরদাশত করা হবে না।”
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সভায় বিশেষ প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের পরবর্তী তিন দিন কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে থাকতে পারবেন না। প্রতিটি ওয়ার্ড পুরোপুরি বর্জ্যমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।
সভায় ঠিকাদারদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ভ্যান ও জনবল নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
ডিএসসিসি প্রশাসক নাগরিকদের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ভালো আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় কর্মীদের পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে।
রাস্তা বা খালে ময়লা ফেলা নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে সংশ্লিষ্ট বাসার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।