আগস্ট ৮, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাজারে সিন্ডিকেট করে কৃষকদের জিম্মি করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বাজার সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করা হবে। এ আইনে মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় পাট ও পেঁয়াজের পাইকারি হাট ও আড়ত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষকদের জিম্মি করে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, কৃষক উৎপাদনের পেছনে শ্রম দিলেও বাজারে এসে নানা ধরনের অনিয়মের কারণে ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অতিরিক্ত ‘তোলা’ আদায়ের বিষয়টিও কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
তিনি জানান, এক মণ পাট বা পেঁয়াজে অতিরিক্ত দুই কেজি পর্যন্ত তোলা নেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে বাজারের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকজনও কৃষকদের কাছ থেকে তোলা নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে এক মণ পণ্যের বিপরীতে কৃষককে প্রায় ৪৫ কেজি পর্যন্ত দিতে হচ্ছে, যা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।
বাজারের এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নিয়ম ভাঙলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা তোলা না দিলে কৃষকের কাছ থেকে পণ্য কিনবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাজার ছেড়ে চলে যান। বিকল্প ব্যবসায়ী এমনিতেই তৈরি হয়ে যাবে।’
মজুতদারির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিধান অনুযায়ী মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ আইনে মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, কৃষক যেন উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, অতিরিক্ত তোলা এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষকদের হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ সময় শৈলকূপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।