ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ কনসার্টে অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হয়েছেন ব্যান্ড ‘আর্ক’-এর ভোকাল ও কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী হাসান। গান পরিবেশনের সময় দর্শকসারি থেকে ছোড়া একটি পানির বোতল তাঁর মুখে এসে আঘাত করে। তবে এ ঘটনায় বিচলিত না হয়ে তিনি পারফরম্যান্স চালিয়ে যান।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বর্ষীয়ান এই শিল্পীর সঙ্গে এমন আচরণের ঘটনায় ব্যান্ডশিল্পীদের সংগঠন ‘বামবা’সহ অনেক সংগীতশিল্পী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনুরাগীরাও জানান তীব্র প্রতিবাদ।
তবে ঘটনার পরও নিজের স্বভাবসুলভ উদারতার পরিচয় দিয়েছেন হাসান। সামাজিকমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি কিছু মনে করিনি, হয়তো কেউ ভুল করে ফেলেছে! ভবিষ্যতে আর কারও ওপর যেন এ রকম না হয়—এই কামনা রইলো।’
তার পোস্টের মন্তব্যঘরে এক অনুরাগী লেখেন, ‘চিন্তা করেন কতটা বিনয়ী হলে এত বড় একজন গুণী শিল্পী এমনভাবে উত্তর দিয়েছেন। তাহলে বোঝেন তাঁর মনটা কেমন সে কত বড় মনের অধিকারী। তোদের হয়ে আমরা ক্ষমা চাচ্ছি প্রিয় আর্ক ব্যান্ডের হাসান ভাইয়ের কাছে।’
ফেসবুকে দেওয়া আরেক পোস্টে হাসান বলেন, ‘গানই আমাদের ভাষা। স্টেজই আমাদের ঘর। দর্শকই আমাদের শক্তি।’ এরপর তিনি যোগ করেন, ‘আমরা বাজাই। আমরা গাই। আমরা রক করি। শো মাস্ট গো অন!’
এর আগে, ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেয় ব্যান্ডশিল্পীদের সংগঠন বামবা। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আর্ক ব্যান্ডের কিংবদন্তি ভোকাল হাসানকে লক্ষ্য করে গতকালের (বুধবার) মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর অনুষ্ঠানে বোতল নিক্ষেপের মতো জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই ঘটনা পুরো ব্যান্ডসংগীত অঙ্গনের জন্য চরম অপমান। আমরা জানতে পেরেছি কিছু ছাপড়ি শ্রেণীর লোকজন যে কী ভয়ানক ব্যবহার করলো উনার সাথে, অবাক করার মতো ব্যাপার! স্টেজের সামনের দর্শক সবগুলো ছাপড়ি ছিল। এদের জায়গা মূলত আরও অনেক পিছে ছিল, পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙচুর করে সামনে আসছে। এরপর কোনো শৃঙ্খলা-নিয়ম কিছুই মানেনি।’
ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বামবা আরও জানায়, ‘এই ধরনের জঘন্য কাজ যারা করেছে, তাদের সিসি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য আয়োজকদের অবশ্যই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, কার্যকর সিসি ক্যামেরা এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এই জঘন্য ঘটনার বিচার চাই।’
এদিকে জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেজের ভোকাল পলাশ নূর লেখেন, ‘একজন কিংবদন্তি শিল্পীর দিকে বোতল ছুড়ে মারা শুধু লজ্জাজনক নয়, এটি একটি অপরাধ। শিল্পীকে সম্মান করতে শিখুন। অপমান বা সহিংসতার কোনো স্থান নেই এখানে।’
রকব্যান্ড দৃকের পক্ষ থেকেও এ ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে। তারা বলেছে, ‘হাসান ভাইয়ের গাওয়া গান আমাদের জীবনের অসংখ্য স্মৃতির অংশ। তাঁকে এমন অপমানের মুখোমুখি হতে দেখে আমরা গভীরভাবে লজ্জিত ও দুঃখিত। এটি শুধু একজন কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি অসম্মান নয়, আমাদের পুরো ব্যান্ডসংগীতের প্রতি অপমান।’
তারা আরও জানায়, ‘আর্ক ব্যান্ডের কিংবদন্তি ভোকালিস্ট হাসান ভাইয়ের গায়ে বোতল নিক্ষেপের এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। যে বা যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে শিল্পী ও দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজকদের আরও কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই।’
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী হাসানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় শুধু বামবা বা কয়েকজন শিল্পী নয়, সংগীতাঙ্গনের আরও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
প্রসঙ্গত, বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ কনসার্ট। এতে হাসানের আর্ক ছাড়াও পারফর্ম করে শিরোনামহীন, আর্টসেল, এভয়েড রাফা, আর্বোভাইরাস ও কুড়েঘর। একক শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন আসিফ আকবর, পারসা ও র্যাপার সেজান।