আগস্ট ৭, ২০২৬, ০২:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সঙ্গে ১৯৯৬ সালের ফারাক্কা পানিবণ্টন চুক্তি নবায়ন না করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝা। বিহারভিত্তিক রাজনৈতিক দল জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর ওয়ার্কিং ন্যাশনাল কমিটির প্রেসিডেন্ট সঞ্জয় কুমার ঝা বিহারের দীর্ঘমেয়াদি জলনিরাপত্তার স্বার্থে এ আহ্বান জানান। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এ তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ফারাক্কা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর ২০২৬ শেষ হবে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি চুক্তিটি নবায়ন না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গঙ্গা অববাহিকার ওপর নির্ভরশীল বিহারসহ সংশ্লিষ্ট সব রাজ্যের ২০৫০ সাল পর্যন্ত পানির চাহিদার বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে নতুন একটি কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দেন।
ভারতীয় পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সঞ্জয় কুমার ঝা বলেন, ‘জেডিইউ মনে করে, এই চুক্তিতে বিহারের বৃহত্তর স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে।’
তিনি জানান, জনতা দল (ইউনাইটেড) এবং দলের জাতীয় সভাপতি ও বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার শুরু থেকেই ফারাক্কা পানি চুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। বিহারের জলসম্পদমন্ত্রী থাকাকালেও তিনি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছিলেন।
রাজ্যসভায় ‘স্পেশাল মেনশন’-এর মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে সঞ্জয় কুমার ঝা বলেন, ‘কলকাতা বন্দর এবং হুগলি নদীতে পর্যাপ্ত পানির প্রবাহ বজায় রাখার জন্য মূলত ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণ করা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘তবে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন ইউপিএ (কংগ্রেসের নেতৃত্বে জোট সরকার) সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে যে ফারাক্কা পানি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, সেটি বিহারের পানি নিরাপত্তার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। গত তিন দশকের অভিজ্ঞতা দেখায়, শুষ্ক মৌসুমে বিহার তীব্র পানিসংকটের মুখোমুখি হয়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং দক্ষিণ বিহারে সুপেয় পানির সংকট ক্রমেই গুরুতর হয়ে উঠছে।’
সঞ্জয় কুমার ঝা বলেন, বিহারের গঙ্গা অববাহিকা-সংলগ্ন এলাকাগুলোর কৃষি, পানীয় জল, শিল্পোন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত গঙ্গার পানি পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে পানিসংকটের কারণে বিশেষ করে দক্ষিণ বিহারের জেলাগুলোতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এর ফলে সেচব্যবস্থা এবং পানীয় জল সরবরাহ উভয় ক্ষেত্রেই গুরুতর সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
রাজ্যসভায় বিহার সরকারের দেওয়া পূর্বাভাসের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০৫০ সালের মধ্যে ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে বিহারের প্রায় দুই হাজার কিউসেক অতিরিক্ত পানি প্রয়োজন হবে। তবে বর্তমান ফারাক্কা পানি চুক্তিতে এ প্রয়োজনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম পানির ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি গঙ্গা অববাহিকার ওপর নির্ভরশীল বিহারসহ সব রাজ্যের প্রকৃত পানির চাহিদার নতুন করে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবং তার ভিত্তিতে নতুন একটি কাঠামো প্রণয়নের আহ্বান জানান।
সঞ্জয় কুমার ঝা কেন্দ্রীয় সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ‘বিহারের কৃষি, পানীয় জল এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পর্যাপ্ত পানির নিশ্চয়তা না দিয়ে যদি ফারাক্কা পানি চুক্তি নবায়ন করা হয়, তাহলে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পাশাপাশি লাখো মানুষের জীবিকার ওপরও।’