বক্স অফিসে স্পাইডার-ম্যানের দাপট, একের পর এক রেকর্ড ভাঙছে ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’

শোবিজ ডেস্ক

আগস্ট ৫, ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম

বক্স অফিসে স্পাইডার-ম্যানের দাপট, একের পর এক রেকর্ড ভাঙছে ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’

ছবি: মার্ভেল

মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে একের পর এক নতুন রেকর্ড গড়ে চলেছে টম হল্যান্ড অভিনীত ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। মাত্র ছয় দিনেই বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, যা চলচ্চিত্র ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম এই মাইলফলক স্পর্শের নজির।

সনি ও মার্ভেলের প্রযোজনায় নির্মিত এই সুপারহিরো সিনেমায় চতুর্থবারের মতো স্পাইডার-ম্যানের ভূমিকায় ফিরেছেন টম হল্যান্ড। এর আগে এত কম সময়ে ১০০ কোটি ডলার আয়ের রেকর্ড ছিল শুধু ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর দখলে, যা মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই প্রায় ১২০ কোটি ডলার আয় করেছিল।

উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসেও দাপট দেখাচ্ছে ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’। মুক্তির চার দিনের মধ্যেই ছবিটির আয় পৌঁছেছে ৪০ কোটি ৭০ লাখ ডলারে। এর মাধ্যমে উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে দ্রুত ৪০০ মিলিয়ন ডলার আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছে সিনেমাটি। পাশাপাশি সোমবার একদিনেই ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সোমবারের আয়ের রেকর্ডও নিজেদের করে নিয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালের ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ৪ কোটি ডলার আয় করে এই রেকর্ডের মালিক ছিল। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ছবিটি আয় করেছে আরও ৬৪ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।

মুক্তির প্রথম সপ্তাহ থেকেই রেকর্ড ভাঙার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে উত্তর আমেরিকায় ৩৬ কোটি ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ৯৩ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করে এটি দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের সিনেমায় পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ডও গড়েছে। এছাড়া প্রিভিউ শো থেকে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং মুক্তির প্রথম দিনেই ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ডলার আয় করে আরও দুটি নতুন রেকর্ড গড়েছে ছবিটি।

দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া এবং সামনে বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমা না থাকায় বিশ্লেষকদের ধারণা, খুব দ্রুতই ছবিটি ২০০ কোটি ডলারের মাইলফলকও স্পর্শ করবে। এখন পর্যন্ত মাত্র সাতটি সিনেমা এই ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছে। ফলে অনেকেরই বিশ্বাস, প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন শেষ হওয়ার আগেই সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমাগুলোর তালিকায় স্থান করে নেবে ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’।

মার্ভেল স্টুডিওসের সভাপতি ও প্রযোজক কেভিন ফাইগি বলেন, ‌‌‌‘‘আমি কখনো ভাবিনি ‘এন্ডগেম’-এর উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড ভাঙা সম্ভব হবে। কিন্তু আমাদের মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের ৩৮তম সিনেমাই সেটি করে দেখিয়েছে। সোমবার সকালে এই অবস্থানে নিজেদের দেখতে পেরে আমি সত্যিই অভিভূত।’’

তিনি জানান, ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’র এই দুর্দান্ত সাফল্য আগামী ডিসেম্বরে মুক্তি পেতে যাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’র জন্যও ইতিবাচক বার্তা। সেই ছবিতে একসঙ্গে ফিরবেন মার্ভেলের একাধিক সুপারহিরো। আর সবচেয়ে বড় চমক, রবার্ট ডাউনি জুনিয়র এবার আয়রন ম্যান নয়, খলনায়ক ডক্টর ডুমের ভূমিকায় হাজির হবেন।

কেভিন ফাইগির কথায়, ‘যখন একটি শেয়ার্ড ইউনিভার্স ঠিকভাবে কাজ করে, তখন ফলাফল এমনই হয়।’

চলতি বছরে ১০০ কোটি ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করা এটি চতুর্থ সিনেমা। এর আগে ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’, ‘মাইকেল’ এবং ‘টয় স্টোরি ৫’ এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। অন্যদিকে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ ইতোমধ্যেই ৯১ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছে। খুব শিগগিরই সেটিও ১০০ কোটি ডলারের ক্লাবে যোগ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৬ সাল ইতোমধ্যেই হলিউডের জন্য স্মরণীয় বছরে পরিণত হয়েছে। এখনও আগস্ট শেষ হয়নি, অথচ মহামারির পর সবচেয়ে বেশি ১০০ কোটি ডলার আয় করা সিনেমা এসেছে এ বছরই। ২০১৯ সালে রেকর্ড নয়টি সিনেমা এই ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছিল। এরপর কোনো বছরই তিনটির বেশি সিনেমা এই মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেনি।

বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ এবং ‘দ্য ওডিসি’র সাফল্য অব্যাহত থাকলে উত্তর আমেরিকায় গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের টিকিট বিক্রি আবারও ৪০০ কোটি ডলার অতিক্রম করবে। পাশাপাশি বছরের শেষ দিকে ‘ডিউন ৩’ এবং ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’র মতো বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা মুক্তি পেলে ২০২৬ সালে উত্তর আমেরিকার মোট বক্স অফিস আয় ১ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও আরও জোরালো হবে।

Link copied!