ছবি: বিবিসি
পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আমির গত মে মাসে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এরপর থেকেই তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে নতুন পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলেও ২০২৭ সালের পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) আর স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেলতে পারবেন না আমির। তাকে খেলতে হবে বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটায়।
সম্প্রতি উইজডেনের ‘দ্য স্কুপ এক্সটেন্ডেড’ পডকাস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আমির নিজেই। ৩৪ বছর বয়সী এই পেসার বলেন, ‘আগামী বছরের পিএসএলে আমি বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হব।’
২০০৮ সালের পর রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আইপিএলে খেলার অনুমতি দেয়নি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। তবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর আমিরের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগের দরজা খুলে গেছে।
আইপিএলে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে আমির বলেন, ‘আগামী বছর আইপিএল ও পিএসএল যদি একই সময়ে হয়, তাহলে আমি আইপিএলকেই বেছে নেব। দেখা যাক, পরিস্থিতি কিভাবে এগোয়।’
আমিরের স্ত্রী নার্জিস খান একজন ব্রিটিশ নাগরিক। তার মাধ্যমেই ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়েছেন আমির। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে তাকে এখন স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কাউন্টি ক্লাব নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে খেলার সময়ও বিদেশি কোটায় পড়েননি আমির। চলমান দ্য হান্ড্রেডে ট্রেন্ট রকেটসের হয়ে খেলছেন স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবেই।
তবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পিএসএলে তার অবস্থান বদলে গেছে। চলতি বছর পিএসএলে রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজের হয়ে স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন তিনি। কিন্তু ২০২৭ মৌসুমে তাকে দলে রাখতে হলে ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে বিদেশি খেলোয়াড়ের একটি জায়গা বরাদ্দ রাখতে হবে। এতে দল গঠনের পরিকল্পনায়ও পরিবর্তন আসতে পারে।
এদিকে পিএসএলের নতুন নিলামব্যবস্থায় ২০২৬ সালে দলে নেওয়া অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি রয়েছে। ফলে স্থানীয় থেকে বিদেশি খেলোয়াড়ে পরিণত হওয়ার পর আমিরের বর্তমান চুক্তির কী হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
সব মিলিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আমিরের জন্য ইংল্যান্ডে নতুন সুযোগ তৈরি করলেও পাকিস্তানে তার ক্রিকেট ভবিষ্যৎ এবং পিএসএলের চুক্তির বিষয়টি এখনো পিসিবির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।