আগস্ট ৭, ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের প্রধান আমিষের উৎস মুরগি, ডিম ও দুধের দাম আবারও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি সোনালী মুরগির দামও রয়েছে বেশি। একই সঙ্গে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় এবং প্রতি লিটার দুধের দাম পৌঁছেছে ১১০ টাকায়। এতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য প্রতিদিনের আমিষের চাহিদা পূরণ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, কয়েক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির কারণে রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির দাম অস্বাভাবিক পর্যায়ে উঠলেও সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় বাজারে সামান্য স্বস্তি ফিরেছে। অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও কিছু সবজির দাম এখনও ১০০ টাকার কাছাকাছি রয়েছে।
আজ (শুক্রবার) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায়। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা এবং প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। বিভিন্ন দোকানে বিশেষ করে মিল্কভিটার দাম ১১০ টাকা দেখা গেছে। অন্যদিকে দেশি মুরগি ও দেশি ডিমের দাম আগের মতোই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়েছে।
এদিকে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির প্রভাবে রাজধানীর বাজারে এর দাম কমতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহ আগেও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা কমে অনেক বাজারে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় নেমেছে। পাইকারি পর্যায়ে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।
বর্তমানে বাজারে বরবটি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং টমেটো ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা, জালি ৬০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় আমিষপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ফলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।