যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ, সুযোগ নিচ্ছে প্রতিযোগীরা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ৮, ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ, সুযোগ নিচ্ছে প্রতিযোগীরা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের জন্য চলতি বছরটা এখন পর্যন্ত স্বস্তির নয়। বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে, এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানিও কমেছে। দেশটির অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) এর তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ৩ হাজার ৫০৯ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। এক বছর আগে একই সময়ে আমদানির পরিমাণের তুলনায় যা ৮ শতাংশ কম।

বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের জায়গাটি শুধু রপ্তানি কমে যাওয়া নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের অংশ কমার পর যে জায়গা তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশও বাংলাদেশ নিতে পারেনি। বরং সেই সুযোগে এগিয়ে গেছে কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ।

প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পোশাক রপ্তানি বেড়েছে। বিপরীতে চীন প্রায় ২০০ কোটি ডলারের রপ্তানি বাজার হারিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতার চিত্র বদলালেও বাংলাদেশ সেই পরিবর্তন থেকে প্রত্যাশিত সুবিধা নিতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় একক বাজার। তাই দেশটির বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়াকে পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে চীনকে টপকে দেশটিতে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে বাংলাদেশ। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪০১ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল।
তবে বছরের প্রথমার্ধের হিসাব সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। 

বিশেষ করে চীনের কমে যাওয়া রপ্তানি বাজারের সুবিধা ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া নিতে পারায় বাংলাদেশের পোশাক খাতের সামনে প্রতিযোগিতার চাপ আরও বাড়ল।
রপ্তানি কমার এই প্রবণতা একই সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজার কৌশল, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে আনছে।

Link copied!