আগস্ট ১৪, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহে ভারতের নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। ঢাকা ও দিল্লির একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সম্ভাব্য এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশেই প্রস্তুতি চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সফরটি হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে, অর্থাৎ ২০ থেকে ২৩ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করতে পারেন। দুই দিনের এই সফর দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি হিসেবে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে সফরের তারিখ ও সময়সূচিসহ বিভিন্ন বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানায় ভারত। আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের রাজধানীতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তারেক রহমান নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। একই সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নতুন করে মূল্যায়ন করতে হচ্ছে ভারতকে।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে গেলে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাঁকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।
তবে নতুন বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও বেড়েছে। এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন।
গত ১০ আগস্ট ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের পরিবেশ উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লির কাছে তাঁকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে। ভারত জানিয়েছে, তারা প্রচলিত আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অনুরোধটি যাচাই করছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি মতবিনিময় করলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। এর জবাবে ঢাকা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয় বলে স্পষ্ট করে। তবে দিল্লি জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, তারেক রহমান ও ভারতীয় হাইকমিশনারের সাম্প্রতিক বৈঠকেও শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি আলোচনায় আসে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক সংযোগের মতো বাস্তবমুখী বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ স্থলসীমান্তের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও পরিবহন যোগাযোগ রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তন এ খাতগুলোতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
পানি বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। এ কারণে চুক্তিটি নবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ভারতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অভিন্ন সীমান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের দিক থেকেও দেশটির গুরুত্ব রয়েছে।