ফিফার বিতর্কিত প্রকল্পে আগাম সমর্থন জানায়নি বাংলাদেশ: তাবিথ আউয়াল

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

ফিফার বিতর্কিত প্রকল্পে আগাম সমর্থন জানায়নি বাংলাদেশ: তাবিথ আউয়াল

ছবি: বাফুফে

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপ বেসরকারীকরণ এবং ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্পে বাংলাদেশ আগাম কোনো সমর্থন জানায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

আজ (রোববার) বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, উয়েফার জোরালো ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে বাফুফের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।

সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর প্রস্তাবকে বাংলাদেশ সমর্থন জানিয়েছে। তবে এ তথ্য নাকচ করে তাবিথ আউয়াল বলেন, বাফুফের যেকোনো সিদ্ধান্ত নির্বাহী কমিটিতে আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হয় এবং এরপর তা প্রকাশ্যে জানানো হয়।

তাবিথ আউয়াল বলেন, আমরা কোনো অগ্রিম সমর্থন বা স্বীকৃতি দিইনি। কোনো ব্যক্তির জন্যও দিইনি, কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষেও দিইনি। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামের যে প্রোগ্রাম নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মতামত চাওয়া হয়েছিল, আমাদের নির্বাহী কমিটি তা বিবেচনা করার আগেই ফিফা সেটি বাতিল ঘোষণা করেছে।

ইনফান্তিনো ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্পের আওতায় বিশ্বকাপের ২০ শতাংশ মালিকানা ৪.২ বিলিয়ন ডলারে, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা, ব্যবসায়ী জোশুয়া কুশনারের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ইটারনালের কাছে বিক্রির প্রস্তাব করেছিলেন। জোশুয়া কুশনার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই।

প্রস্তাবিত শেয়ার বিক্রি হলে ভবিষ্যতে ফিফার প্রতিটি সদস্য দেশ সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৯৩ কোটি টাকা পর্যন্ত পেতে পারত। বর্তমানে প্রতিটি সদস্য দেশের জন্য এই অর্থের পরিমাণ ১০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১২৩ কোটি টাকা।

শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাতিল হলেও ফিফার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ইনফান্তিনোকে আর ফিফার সভাপতি হিসেবে দেখতে চান না—এমন মতও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালো হচ্ছে।

এ বিষয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, উয়েফা শক্তিশালী ভূমিকা রাখার কারণে এটা ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নিচ্ছে। এ কারণে আমি মনে করি বাফুফের নির্বাহী কমিটির পাশাপাশি আমাদের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও কথা বলতে হবে। সার্বিক বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেই আমাদের অবস্থান জানাব।

Link copied!