আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি: সংগৃহীত
দেশকে এগিয়ে নিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বারোপ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়—এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
আজ (রোববার) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া এলাকায় ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের জন্য যদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়, বিদেশি এবং দেশি বিনিয়োগকারী যারা আছে, তাদের উৎসাহিত করে যদি কারখানা স্থাপন করতে হয়, তাহলে পূর্বশর্ত হচ্ছে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা থাকতে হবে। বিশৃঙ্খলা থাকলে চলবে না।’
তিনি বলেন, ‘দেশীয় বা বিদেশি বিনিয়োগকারী যারা আছে, তারা যখন বিনিয়োগ করবে, তারা তো চাইবে যাতে তার মিল-কারখানার উৎপাদিত পণ্য ঠিকভাবে যেন বন্দর দিয়ে যেতে পারে বা তার কাঁচামাল সঠিকভাবে আসতে পারে। রাস্তাঘাটে যাতে শান্তি থাকে। যদি মিল-কারখানা না চলে সঠিকভাবে, তাহলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব না। এজন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি দেশের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা আমাদের তৈরি করতে হয়, সুন্দরভাবে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতে হয়, স্কুল-কলেজ সুন্দরভাবে তৈরি করতে হয়, শিক্ষকদের যদি ট্রেনিং দিতে হয়, ছাত্র-ছাত্রীদের যদি নতুন করে বই দিতে হয়, এই সব ব্যবস্থা যদি করতে হয়, তাহলে আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে। একইভাবে সতর্ক থাকতে হবে, আমাদের যারা বিভ্রান্ত করতে চায়, তারা যাতে কোনও সুযোগ না পায়। কারণ, বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ। বিভ্রান্তকারী যারা, তারা তো নিজেদের মতন করে চলে যাবে, তারা তো জনগণের সঙ্গে থাকবে না।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা কী আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো, নাকি আমরা ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত থাকবো। নাকি আমরা বিভ্রান্তকারীদের সঙ্গে থাকবো। এই ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর এক মাসের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছিল এবং এরই মধ্যে সেই কাজ শেষ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের পর এক মাসের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্টের কাজে হাত দিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে, পাইলট প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশে এই বছর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আমরা প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেবো।’
ফ্যামিলি কার্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, লক্ষ্য ছিল, ভাইদের পাশাপাশি যাতে বোনেরাও সংসারের হাল ধরতে পারে। একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে পারে। সন্তানদের লেখাপড়া দেখতে পারে। সন্তানদের স্বাস্থ্যসেবা যাতে দিতে পারে মায়েরা। সেই জন্য মায়েদের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। শুধু ফ্যামিলি কার্ডই নয়, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি আমরা কৃষক কার্ডেরও ব্যবস্থা করেছি।’
সমুদ্রকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রচেষ্টা চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন মিল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মীরসরাই থেকে মাতারবাড়ি পর্যন্ত কীভাবে আমরা বিভিন্ন মিল-ফ্যাক্টরি স্থাপন করার মাধ্যমে এই দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবো, এই দেশের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যবস্থা করতে পারবো, সেই পরিকল্পনা কীভাবে গ্রহণ করা যায়, তার জন্য আমি মাতারবাড়ি গিয়েছিলাম।’
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বাঁশখালীতে ১০০টি অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট এবং প্রস্থ ১২ ফুট। প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ ও পাঁচ ফুট বাই পাঁচ ফুটের একটি সংযুক্ত শৌচাগার রয়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘরগুলো নির্মাণে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হয়েছে।
চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও শিশুকে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হয়। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এর আগে সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে পৌঁছে। হেলিপ্যাডে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হেলিকপ্টার থেকে নামেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।