আগস্ট ৫, ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় রাজনৈতিক সংগঠন ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ (বুধবার) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত নেন।
কারাগারে পাঠানো অন্য আসামিরা হলেন—সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান নুরজাহান নীরা, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব মণ্ডল ও হরী সরকার।
এর আগে বুধবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মনিরুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
তবে মোমিন মেহেদী ও শান্তা ফারজানার নামে একাধিক ওকালতনামা থাকায় তাদের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। অপর চার আসামির পক্ষে আইনজীবী মফিজুল ইসলাম আসলাম জামিন আবেদন করে শুনানি করেন।
আইনজীবী মফিজুল ইসলাম বলেন, আয়াস নামে একটি ছেলে চড় মারে শান্তা ফারজানাকে। এ কারণে তারা মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন করে। সেখানে তাদেরকে মারধর করে। পরে হাসপাতালে গেলে সেখানেও মারধর করা হয়। এই ৪ জন ঘটনার সাথে জড়িত নয়, তাদেরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাদের জামিন প্রার্থণা করছি।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, এরা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর। তারা ভিন্ন একটা দল তৈরি করে। সেখানে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা বলে। এর প্রতিবাদ করলে আয়াসকে মারধর করে।
শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মোমিন মেহেদী, শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার বাবুল সরদার নামে এক ব্যক্তি শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা আওয়ামী লীগের দোসর এবং বর্তমান সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তারা উসকানিমূলক স্লোগান ও মিছিল করছিলেন। এ সময় বাবুল সরকার, রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য সচিব আল নুর মোহাম্মদ আয়াসসহ জুলাই আন্দোলনের কয়েকজন এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, এসএস পাইপ, চেয়ার ও হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালান।
এতে আয়াসসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় আয়াসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’ ও ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহতরা চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গেলে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থানের পর শান্তা ফারজানাসহ ছয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তায় রাত ১১টার দিকে তাদের শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সংঘর্ষের সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা দেড় ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ ছিল।