ছবি: সংগৃহীত
ভোটার তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ পড়ার খবর পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ। শুধু ক্ষোভ প্রকাশ নয়, বেঙ্গালুরুর প্রায় ৬৫ লাখ ভোটারের সঙ্গে তার ভোটাধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় প্রকাশ রাজ বলেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। জন্ম, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা, থিয়েটার ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বেঙ্গালুরুতে কীভাবে তার ভোটাধিকার হারিয়ে গেল, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
প্রকাশ রাজ বলেন, আমি এই কেন্দ্রেই জন্মেছি, বড় হয়েছি। এখানেই আমার স্কুল, কলেজ ও থিয়েটার চর্চা। এমনকি আমি এই কেন্দ্রের একজন লোকসভার প্রার্থীও ছিলাম।
এরপর তিনি বলেন, খেলা শুরু হয়ে গেছে। দেখা যাক এবার আমার ভোটার আইডি ফেরত পেতে আমাকে আর কী কী নিয়মের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আর এর জন্য কী কী কাগজপত্র দেখাতে হয়!
কেন্দ্রীয় সরকারের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে প্রকাশ রাজ অভিযোগ করেন, ক্ষমতা ব্যবহার করে হয়তো এমন নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া সম্ভব, যারা তাদের ভোট দেবে না। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমাদের কি আপনারা আটকাতে পারবেন?
তবে প্রকাশ রাজের অভিযোগের পর ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল সিটি কর্পোরেশন। তাদের দাবি, কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়, ঠিকানা পরিবর্তনের কারণেই অভিনেতার নাম ভোটার তালিকায় ‘স্থানান্তরিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বুথ লেভেল অফিসার বাড়ি বাড়ি যাচাইয়ের সময় জানতে পারেন, প্রকাশ রাজের নিবন্ধিত ঠিকানায় তিনি গত চার বছর ধরে থাকেন না। প্রতিবেশী, প্রপার্টি ম্যানেজার ও ফ্ল্যাটের মালিকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে ওই ফ্ল্যাটে অন্য ভাড়াটেরা বসবাস করছেন।
বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল সিটি কর্পোরেশনের কমিশনার ও অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জগদীশ জি দাবি করেন, তিনি নিজে প্রকাশ রাজের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিনেতা স্বীকার করেছেন যে তিনি ওই ঠিকানায় থাকেন না এবং বর্তমানে শান্তিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্য একটি ঠিকানায় বসবাস করছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশ রাজকে নতুন ঠিকানার বুথ লেভেল অফিসারের মাধ্যমে ফর্ম-৬ পূরণ করে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে প্রকাশ রাজকে ঘিরে আরেকটি তথ্য সামনে এসেছে। এর আগে গত ১০ জুলাই একটি ফৌজদারি মামলায় তাকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দিয়েছিল একটি নগর আদালত। তার বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানায় নিবন্ধিত চারটি ভোটার কার্ড নিজের কাছে রাখার অভিযোগও রয়েছে।