প্রাণনাশের হুমকিতে তুরস্কে গোপনে বিমান বদলেছিলেন ট্রাম্প

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ১২, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

প্রাণনাশের হুমকিতে তুরস্কে গোপনে বিমান বদলেছিলেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

প্রাণনাশের হুমকির আশঙ্কায় তুরস্কে অবস্থানকালে গোপনে এয়ার ফোর্স ওয়ান বদল করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশের পর মঙ্গলবার বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, নিরাপত্তার কারণে তাকে অন্য একটি বিমানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। হুমকির বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে না চাইলেও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশ মেনে তিনি বিমান পরিবর্তন করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘মনে হয় কোনো হুমকি ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমি খুব বেশি কিছু জানতে চাইনি।’

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৮ জুলাই তুরস্কে থাকা অবস্থায় এয়ার ফোর্স ওয়ান উড্ডয়নের আগে গোপন অভিযানে ট্রাম্পকে বিমানটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তখন বিমানটিতে সাংবাদিক ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ছিলেন। তারা বিষয়টি জানতে পারেননি এবং পরে ওই বিমানেই তুরস্ক ছাড়েন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাংবাদিক ও আলোকচিত্রীদের সামনে ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গেলেও পরে তিনি গোপনে বিমানটি থেকে বেরিয়ে আসেন। একটি কার্গো কনটেইনারের আড়াল ব্যবহার করে তাকে কাছাকাছি থাকা মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ছোট বিমানে নেওয়া হয়।

ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, যে ছোট বিমানে তাকে নেওয়া হয়েছিল, সেটিই বরং বেশি ঝুঁকিতে ছিল বলে তার ধারণা। কারণ হামলাকারীরা প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমানটিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে লক্ষ্য করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
এ ঘটনায় এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি আগে জানানো হয়নি এবং অজান্তেই তাদের সম্ভাব্য ‘ডিকয়’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের কাছ থেকে যথেষ্ট তথ্য না পাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন সাংবাদিক।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এয়ার ফোর্স ওয়ানকে কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার আশঙ্কার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছিল ইসরাইল। তখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও কর্মীরাও বিমানে ছিলেন।

বিমানে থাকা সাংবাদিকদের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, উড্ডয়নের সময় সিক্রেট সার্ভিস জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে এমন নির্দেশকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার কংগ্রেসকে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইরানের হুমকি এবং তাকে তুরস্ক থেকে সরিয়ে নিতে নেওয়া নিরাপত্তা পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।


ন্যাটো সম্মেলনে যাওয়ার পর ট্রাম্পের সফরে কাতারের উপহার দেওয়া বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭ বিমান ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। বিমানটি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনের উপযোগী করে সংস্কারের পরিকল্পনা থাকলেও এতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না বলে জানা যায়। এ কারণে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করা হয়।

এর আগে ব্রিটেন সফরের সময়ও ওই বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হলে ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, তারা সম্ভবত একটি ‘বিপজ্জনক ফ্লাইটে’ রয়েছেন।

ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার বিরুদ্ধে নিয়মিতই নানা ধরনের হুমকি থাকে। তবে এসব নিয়ে তিনি খুব একটা উদ্বিগ্ন নন বলেও জানান।

এর আগে ২০০০ সালে ভারত থেকে পাকিস্তান যাওয়ার পথে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বিমানও শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে ইউক্রেন সফরের সময় জো বাইডেনের যাত্রাপথও কঠোর গোপনীয়তায় রাখা হয়।

Link copied!