আগস্ট ১১, ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
ছবি: এপি
রোমাঞ্চকর এক মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। আগামী ১২ আগস্ট আকাশে দেখা যাবে বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর এটিই বিশ্বজুড়ে প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। একই সঙ্গে ১৯৯৯ সালের পর ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে এটি প্রথমবারের মতো দৃশ্যমান হবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব হতে পারে প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড।
গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী বুধবার (১২ আগস্ট) বিকাল ৩টা ৩৪ মিনিটে সূর্যগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর চাঁদের প্রচ্ছায়া দ্রুত পৃথিবীর ওপর দিয়ে অগ্রসর হবে।
পূর্ণগ্রাসের পথ
চাঁদের প্রচ্ছায়া আর্কটিক অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে পশ্চিম আইসল্যান্ড, উত্তর-পূর্ব পর্তুগাল ও উত্তর স্পেন অতিক্রম করবে। স্পেনের লিওন, বুর্গোস, ভায়াদোলিদ, সানতান্দের, বিলবাও, জারাগোজা, ভ্যালেন্সিয়া ও পালমা শহর থেকে এ বিরল দৃশ্য সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে।
স্পেনে কখন দেখা যাবে
স্পেনে স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৭ মিনিটের দিকে পশ্চিমাঞ্চলে পূর্ণগ্রাস শুরু হবে। অবস্থানভেদে এটি সর্বোচ্চ ১১০ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা পূর্ণগ্রাসের মূল বলয়ের ঠিক বাইরে থাকলেও সেখান থেকে সূর্যের ৯৯ শতাংশের বেশি অংশ চাঁদের আড়ালে ঢেকে যেতে দেখা যাবে।
বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমানতা
ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় দেড় কোটি মানুষ পূর্ণগ্রাসের পথে অবস্থান করবেন, যাদের বেশিরভাগই স্পেনের বাসিন্দা। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৮ কোটি মানুষ—অর্থাৎ প্রতি আটজনের একজনের বেশি—সূর্যের আংশিক বা পূর্ণগ্রাস রূপ দেখতে পারবেন।
চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ঢেকে দিলে সূর্যগ্রহণ ঘটে। চাঁদের ছায়া সূর্যের পুরো চাকতিকে ঢেকে ফেললে তাকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলা হয়।
সূর্যের ব্যাস চাঁদের চেয়ে প্রায় ৪০০ গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে সূর্য চাঁদের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ দূরে অবস্থিত। ফলে পৃথিবী থেকে আকাশে দুটিকেই প্রায় সমান আকারের মনে হয়। আর এ কারণেই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সম্ভব হয়।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীতে প্রতি বছর দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আংশিক, বলয়গ্রাস, পূর্ণগ্রাস ও সংকর সূর্যগ্রহণ। তবে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বিরল। প্রতি এক শতকে গড়ে প্রায় ৬৬ বার, অর্থাৎ প্রায় দেড় বছর পরপর এ ধরনের গ্রহণ ঘটে।
মোট সূর্যগ্রহণের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আংশিক, এক-তৃতীয়াংশ বলয়গ্রাস, এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি পূর্ণগ্রাস এবং মাত্র ৫ শতাংশ সংকর ধরনের হয়ে থাকে।
বিশ্বের বিস্তৃত অঞ্চলে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কোটি কোটি মানুষ বিরল এ মহাজাগতিক ঘটনার অপেক্ষায় রয়েছেন।