রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: জাতীয় সংসদে প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ১১, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: জাতীয় সংসদে প্রস্তুতিমূলক সভা শুরু

ফাইল ছবি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।

আজ (মঙ্গলবার) বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নিচ তলায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ সভা শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দুই দিন আগে নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ পরিচালক মনির হোসেন জানান, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে এ সভা হচ্ছে।

ভোটকে সামনে রেখে নানা ধরনের কাজ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংসদ কক্ষে ভোট হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা থাকে।

মনির হোসেন বলেন, এতে সংসদ সচিবালয়ের সচিব থাকছেন। ইসি সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলও অংশ নিয়েছে।

ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা ১৩ অগাস্ট মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ১৬ অগাস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে এবং ১৮ অগাস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।

একাধিক প্রার্থী হলে আগামী ২০ অগাস্ট জাতীয় সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

সাড়ে তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার একাধিক প্রার্থী হতে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিরোধী দল জামায়াত তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী থাকলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। স্থানীয় সরকার ও সংসদ নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয় প্রকাশ্যে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচন ভবনে সিইসির কাছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াত তাদের দলীয় প্রার্থীর জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে।

মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের কাজ সিইসির কার্যালয়ে সম্পন্ন হয়। একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। একাধিক প্রার্থী হলে সংসদ কক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সহায়ক কর্মকর্তারা ‘নির্বাচনি কর্তা’কে ভোটের কাজে সহায়তা করেন। সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিলে সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল। তবে ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি আইনে প্রকাশ্য ভোটের বিধান করা হয়।

ত্রয়োদশ সংসদে বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনসহ ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন। তারাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।

সংরক্ষিত আসনসহ বিএনপির সংসদ সদস্য রয়েছেন ২৪৭ জন এবং জামায়াতের ৭৭ জন। এছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিশের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন সংসদে।

Link copied!