কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩২ জনে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকা থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত অন্তত ২১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম কলম্বিয়ার ক্যালি শহরে ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপে স্ত্রীকে খুঁজছেন আন্দ্রেস বুরবানো। ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় ভাগ্যের জোরে তিনি ও তার সন্তান প্রাণে বেঁচে গেলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তার স্ত্রী।
ক্যালি শহরের বাসিন্দা আন্দ্রেস বুরবানো বলেন, আমার বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আমার স্ত্রী তখন ভেতরে ছিলেন। সৌভাগ্যবশত, আমার মেয়ে বের হতে পেরেছে। আমি নিজেও কাজে থাকায় বেঁচে যাই। কিন্তু এখনো আমরা আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করতে পারিনি। তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন, সেটাও জানি না।
তার মতো অসংখ্য মানুষ ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন। ভয়াবহ এই দুর্যোগের ধাক্কা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকেই।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, কম্পন শুরু হলে প্রথমে শান্ত ছিলাম, ভেবেছিলাম থেমে যাবে। কিন্তু পরে বুঝলাম এর তীব্রতা অনেক বেশি। তাই আমরা নিরাপদ জায়গায় চলে আসি। আমার মনে হয়, আরও ৫ সেকেন্ড চললে কিছুই অবশিষ্ট থাকত না।
ভূমিকম্পের পর ক্যালি শহরে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কারফিউ জারি করেন মেয়র। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ফায়ার ফাইটার ড্যানিলো প্রাডা বলেন, এখানে একটি ৪তলা ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো অনেকের অবস্থান নিশ্চিত নয়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ক্যালি ছাড়াও পশ্চিম কলম্বিয়ার পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেসসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেড় হাজারের বেশি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে অর্ধশতাধিক ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। এছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্র, অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাতটি বিমানবন্দরের অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় কলম্বিয়াকে ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের জরুরি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে পাশে রয়েছে এল সালভাদর ও মেক্সিকো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি চিলি, ফ্রান্স, ভেনেজুয়েলা ও ইকুয়েডরসহ বিভিন্ন দেশও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পের দুই মাস না পেরোতেই সোমবার প্রতিবেশী কলম্বিয়ায় আঘাত হানে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী এই ভূমিকম্প।