ফাইনালে ভারতের হার ৬ উইকেটে

অস্ট্রেলিয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন

স্পোর্টস ডেস্ক

নভেম্বর ১৯, ২০২৩, ০৩:৫৩ পিএম

অস্ট্রেলিয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন

ছবি: ক্রিকইনফো

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ভারতকে ৬ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। জয়ের নায়ক ট্র্যাভিস হেড ১৩৭ রান করে ম্যাচ জেতান। 

এটা অস্ট্রেলিয়ার ৬ষ্ঠ আইসিসি বিশ্বকাপ জয়। আটবার ফাইনাল খেলে ৬ বার জিতেছে তারা। অবিশ্বাস্য অর্জন বলা চলে। ভারত চেষ্টা করেছিল। পেরে ওঠেনি রোহিতের দল। 

ভারত আগে ব্যাট করে ২৪০ রান সংগ্রহ করে। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪৩ ওভারে জয় নিশ্চিত করে (২৪১/৪)। ম্যাচসেরা হন ট্র্যাভিস হেড। 

এর আগে ১৯৮৭, ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭ ও ২০১৫ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিলো অস্ট্রেলিয়া। ২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনালেও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছিলো ভারত। ২০১১ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠলেও তৃতীয়বারের মত শিরোপা জিততে ব্যর্থ হলো  রোহিত শর্মার দল।

২৪১ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ সামির বলে স্লিপে কোহলিকে ক্যাচ দেন ৭ রান করা ডেভিড ওয়ার্নার। এর মাধ্যমে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৪ উইকেটের মালিক হন সামি।
তিন নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন মিচেল মার্শ। ১টি করে চার-ছক্কাও হাঁকান তিনি। পঞ্চম ওভারে মার্শকে (১৫) রানে বিদায় দেন ভারতের আরেক পেসার জসপ্রিত বুমরাহ।

মার্শের বিদায়ে উইকেটে এসে বাউন্ডারি দিয়ে রানের খাতা খোলেন স্টিভেন স্মিথ। কিন্তু ঐ ৪ রানেই স্মিথকে লেগ বিফোর আউট করেন বুমরাহ। স্মিথকে তুলে নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ ৯৮তম শিকার পূর্ণ করেন ভারতীয় বোলাররা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক আসরে যা সর্বোচ্চ শিকার কোন দলের।   

সপ্তম ওভারে দলীয় ৪৭ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এ অবস্থায় বড় জুটির প্রত্যাশা পূরণ করেছেন আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেন। ঠান্ডা মাথায় স্ট্রাইক রোটেট করে রানের চাকা সচল রেখে  ২০তম ওভারেই দলীয় রান  ১শ তে পৌঁছে দেন হেপ-লাবুশেন।

২২তম ওভারে ওয়ানডেতে ১৭তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৫৮ বল খেলা হেড। ২৭তম ওভারে জুটিতে শতরান পূর্ণ করেন হেড ও লাবুশেন। ৩৪তম ওভারের পঞ্চম বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে পঞ্চম সেঞ্চুরির দেখা পান হেড। তিন অংকে পৌঁছতে  ৯৫ বল খেলে ১৪টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে সেঞ্চুরির নজির গড়েন হেড। এর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছিলেন- ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড-ভিভ রিচার্ডস, অস্ট্রেলিয়ার এডাম গিলক্রিস্ট-রিকি পন্টিং ও শ্রীলংকার মাহেলা জয়াবর্ধনে।

হেডের সেঞ্চুরিতে ৩৭তম ওভারে ২শ রানে পৌঁছে জয়ের পথ সহজ করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। লাবুশেনকে নিয়েই অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করার পথেই ছিলেন হেড। কিন্তু দলের জয় থেকে মাত্র ২ রান দূরে থাকতে ৪৩তম ওভারে মোহাম্মদ সিরাজের বলে আউট হন হেড। এরপর বাকী ২ রান নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শিরোপা নিশ্চিত করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

চতুর্থ উইকেটে লাবুশেনের সাথে ২১৫ বলে ১৯২ রানের জুটি গড়েন হেড। ১৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১২০ বলে ১৩৭ রান করেন ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া  হেড। লাবুশেন ৫৮ ও ম্যাক্সওয়েল ২ রানে অপরাজিত থাকেন। ভারতের বুমরাহ ২টি উইকেট নেন।

Link copied!