চীনের মহাপ্রাচীরের নিচে পৃথিবীর গভীরতম উচ্চগতির রেলস্টেশন

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২২, ০৫:৩০ পিএম

চীনের মহাপ্রাচীরের নিচে পৃথিবীর গভীরতম উচ্চগতির রেলস্টেশন

বেইজিংয়ে শীতকালীন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই মহাযজ্ঞের হাত ধরে চালু হয়েছে পৃথিবীর প্রথম চালকবিহীন উচ্চগতির ট্রেন সেবা। ঐতিহাসিক বেইজিং-ঝাংজিয়াকৌ আন্তঃনগর ট্রেন সেবা ইতোমধ্যে ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের আনা-নেওয়া শুরু করেছে।

সিএনএন জানিয়েছে, মূলত অলিম্পিকের প্রধান ২ শহরের মধ্যেই যাতায়াত করছে ট্রেনটি।

চালকহীন বুলেট ট্রেনটির ৫৬ মিনিটের যাত্রাপথে এটি বাডালিং গ্রেট ওয়াল স্টেশনের মধ্য দিয়ে যায়, যেটি আধুনিক প্রকৌশলের আরেকটি চমৎকার নিদর্শন।

শতবর্ষ পুরনো চীনের মহাপ্রাচীরের সবচেয়ে জনপ্রিয় অংশ বাডালিংয়ের প্রবেশপথে অবস্থিত এ স্টেশনের নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৯ সালে। চীনের প্রাচীরকে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে রেললাইন ও স্টেশন মাটির তলদেশে এবং অনেক গভীরে নির্মাণ করা হয়।

এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০২ মিটার (৩৩৫ ফুট) নিচে, প্রায় ৩৬ হাজার বর্গমিটার জায়গা নিয়ে তৈরি একটি ৩ তলা বিশিষ্ট অবকাঠামো। একে বলা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরে অবস্থিত ও দীর্ঘতম ভূগর্ভস্থ উচ্চগতির রেলস্টেশন।

এ ধরণের একটি জটিল নকশা সম্বলিত স্টেশন নির্মাণ সহজ ছিল না। বিশেষ করে চীনের প্রাচীরের মতো একটি ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের এতো কাছে। ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ (৭ দশমিক ৪৫ মাইল) সুড়ঙ্গপথটি নির্মাণে উচ্চপর্যায়ের সাবধানতা অবলম্বন করা হয়েছে।

২০১৬ সালে সুরঙ্গ ও স্টেশনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হতে ৩ বছর সময় লাগে।

চীনের রাজধানী বেইজিং থেকে বাডালিংয়ে চীনের প্রাচীরে পৌঁছতে গড়ে সময় লাগে ৯০ মিনিট (ট্রাফিক জ্যাম থাকলে আরও বেশি)। এই উচ্চগতির রেলওয়ে সেই সময় কমিয়ে এনেছে ২৭ মিনিটে।

এই স্টেশনটি চীনের প্রাচীরের ক্যাবল কার স্টেশন থেকে কয়েক মিনিট দূরে এবং প্রাচীর থেকে প্রায় আধ মাইল দূরে অবস্থিত। এখানে একই সঙ্গে চীনের ২য় বৃহত্তম এসকেলেটরটিও রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ৮৮ মিটার ও উচ্চতা ৪২ মিটার।

জানুয়ারির শুরুতে এই ট্রেনটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোমিটার (২১৭ মাইল) বেগে চলতে পারে। শীতকালীন অলিম্পিকের ২ শহরের মাঝে যাতায়াতের জন্য সময় লাগতে গড়ে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। সেই সময় কমিয়ে ৫৬ মিনিটে এনেছে এই ট্রেন।

Link copied!