আগস্ট ৩০, ২০২৫, ০১:২০ পিএম
শনিবার সকাল ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেশের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা একত্রিত হয়ে তিনটি প্রধান দাবিতে সমাবেশ করেছেন।
তাদের দাবিগুলো হলো— ১১তম গ্রেডে বেতন, প্রধান শিক্ষকদের ১০০ শতাংশ পদে পদোন্নতি এবং উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা সমাধান।
সকাল ১০টায় সমাবেশটি শুরু হয়, যেখানে শিক্ষকেরা একসাথে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের ব্যানারে, যা ছয়টি শিক্ষক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত। সমাবেশে সারাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামসুদ্দীন মাসুদ বলেন, “আমাদের ইতিহাস দীর্ঘ নয়, কিন্তু তা গুরুত্বপুর্ণ। ২০১৩ সাল থেকে আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি এবং উল্লেখযোগ্য অর্জন করেছি। তবুও, বেতন বৈষম্য এখনো দূর হয়নি। আমাদের মূল দাবিগুলো পূরণ না হলে আমরা আরও শক্তিশালী কর্মসূচি গ্রহণ করব।”
তিনি আরও বলেন, “পূর্বের সরকারের সময় আমাকে রাতের অন্ধকারে জঙ্গি তকমা দিয়ে আটক করা হয়েছিল। আজও আমাদের রাজনৈতিকভাবে ট্যাগ করা হচ্ছে। আমরা কোনো দলের নয়, আমরা শুধুমাত্র আমাদের দাবির জন্য এখানে এসেছি। যদি সরকার আমাদের দাবি মেনে নেয়, আমরা ধন্যবাদ দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে চলে যাব।”
জাতীয় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহিনুর আক্তার বলেন, “বাংলাদেশের শিক্ষকরা শুধুমাত্র শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না, বরং আরও অনেক কাজ করেন। তবু তাদের অবহেলা করা হয়। দেশের শিক্ষকদের বেতন বিশ্বের তুলনায় অত্যন্ত কম। এই বৈষম্যের অবসান চাই। যদি আমাদের দাবি অগ্রাহ্য করা হয়, কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।”
শিক্ষক নেতারা জানান, গত মে মাসের শেষ দিকে তিন দফা দাবিতে সহকারী শিক্ষকরা ধারাবাহিক কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন। সেই সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার তাদের সঙ্গে বৈঠক করে দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দেন। ফলে কর্মবিরতি সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। কিন্তু কয়েক মাস পার হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শিক্ষকরা আরও বলেন, একজন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকের বেতন তৃতীয় শ্রেণীর সরকারি কর্মচারীর সমপর্যায়ের হওয়ায় তারা সামাজিক প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন না। উন্নত জাতি গড়তে হলে শিক্ষকদের সম্মান ও ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, গণসংহতি আন্দোলন এবং গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৪ লাখ শিক্ষক কর্মরত। প্রধান শিক্ষকদের বেতন সম্প্রতি ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে, তবে সহকারী শিক্ষকেরা এখনও ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন।