এশিয়া কাপ

খারাপ সময়ে মানুষকে পাশে চায় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা

স্পোর্টস ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৩, ০৬:৪২ পিএম

খারাপ সময়ে মানুষকে পাশে চায় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা

বিসিবি পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশন্সের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস মঙ্গলবার শ্রীলংকায় সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। নানা ইস্যু উঠে আসে। সাকিবের ছুটি, চোট ও নিউজিল্যান্ড সিরিজের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি। পুরো বক্তব্য দ্য রিপোর্টের পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো-

এশিয়া কাপের ফল
প্রথম বলে নিই, আমাদের যে টিমটা ছিল, এশিয়া কাপের জন্য যেটা আমরা ঠিক করেছিলাম, সেখান থেকে আমরা একটু ছিটকে গিয়েছি, আপনারা জানেন। কারণটা হচ্ছে, কিছু চোট ছিল, এতে দলের ভারসাম্যে কিছুটা সমস্যা হয়েছে অবশ্যই। শান্ত চোট পেয়ে দেশে চলে গেছে। এর মধ্যে আমাদের প্রথম যে দল ছিল, সেখানে ইবাদতও ছিল। ওকে আমরা আনতে পারিনি। লিটনও জ্বরে ভুগেছে, এরপরে এখনো পর্যন্ত কিছুটা সে স্ট্রাগল করছে কিছুটা এডজাস্ট করতে। এটা ওর খেলার মধ্যেই আমরা দেখতে পাচ্ছি। এসব কিছুর কারণে, চোটের কারণে কিছুটা ইনব্যালেন্স হয়েছে। ইনব্যালেন্স হওয়ার কারণে, আমরা যে আশা করেছিলাম.. অবশ্য আমাদের সবারই একটা টার্গেট থাকে, আমাদেরও একটা টার্গেট ছিল, এশিয়া কাপে ভালো খেলে অন্তত ফাইনালে উঠতে পারি, এই টার্গেট ছিল। অতীতেও আমরা ফাইনাল উঠেছি। সেটাই আমাদের টার্গেট ছিল। কিন্তু এসব কিছু কারণে, চোটের কারণে দলের মধ্যে অবশ্যই কিছুটা ইনব্যালেন্স হয়েছে। এজন্য রেজাল্টেও কিছুটা আপসেট হয়েছে।

ডিমোটিভেট কি না
কী কারণে ডিমোটিভেট আপনি বলেন? মানে কোন দিক থেকে ডিমোটিভেট? কারণ তারা যে কষ্টটা করেছে, ঢাকাতে অনুশীলন করেছে, আয়ারল্যান্ড থেকে ফেরার পর আমরা যেভাবে অনুশীলন করেছি পুরো টিমটা নিয়ে। তারপর আমরা আফগানিস্তান সিরিজও খেলেছি। তারপরে আমরা এখানে এসেছি (কলম্বো)। সবাইতো অনুশীলনে ছিল। হাইলি মোটিভেটেড টিম, ডিমোটিভেশনের কোনো সুযোগই নেই। হাইলি মোটিভেটেড টিম এখনো আমি মনে করি। খেলার মধ্যে হার–জিত আছেই। হয়তো আমাদের যে টর্গেট অর্জন করার কথা ছিল, সেটা করতে পারিনি, এটা সত্যি কথা। কিন্তু সবাই চেষ্টা করে, প্রতিটা ম্যাচই জেতার চেষ্টা করে। সবাই শতভাগ দিয়েই খেলে। এখানে টিম ম্যানেজেমেন্ট বলেন, খেলোয়াড় বলেন সবাই সেরাটা খেলারই চেষ্টা করে; কিন্তু অনেক সময় রেজাল্টটা হয় না, এটাই ক্রিকেট। এখানে হয়তো আমরা জিততে পারি, আবার আমরা হারতেও পারি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আমরা ভালো একটা ম্যাচ জিতেছি। এরপরে সবাই আশায় ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমাদের জেতার কথা ছিল ডেফেনটলি। আমরা শ্রীলঙ্কা থেকে ভালো টিম কিন্তু আশানোরূপ রেজাল্ট করতে পারিনি। আমরা সবাই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম, এই খেলাটায় জিতব। যেহেতু আমরা খেলাটায় জিততে পারিনি, তাই দ্বিতীয় রাউন্ডে (সুপার ফোরে) আমরা পিছিয়ে গিয়েছি।

সাকিবের ছুটি
সাকিবকেও ব্যক্তিগতে কারণে দিয়েছিল। আমরা এখানে সবাই ছিলাম। আগেও বলেছিল তিন দিনের জন্য (ছুটি)। যেহেতু এখানে কোনো অনুশীলন নেই। সেজন্য সে চেয়েছিল ঢাকায় যাবে, একটা ব্যক্তিগত ছিল বলেছে। সভাপতিও ছিলেন আমাদের সঙ্গে, টিম ম্যানেজমেন্ট কোচও জানে। সবাই মিলে আমরা তাকে এই বিরতিতে ঢাকায় যেতে দিয়েছি।

আউটের ধরন
দুই-একটা নিয়ে আপনারা বলেত পারেন। আমাদের সেট ব্যাটার যেভাবে… তবে আমি শেষ ম্যাচের কথা বলি। আমরা যে জায়গা সংগ্রাম করছিলাম, ওপেনিংয়ে। আমরা কিন্তু ওপেনিং স্ট্যান্ডে মোটামুটি কাভার করে ফেলেছিলাম। ৫০ রানেও ওপেনিং জুটি ভাঙেনি। সেখান থেকে মিডল অর্ডার দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার কারণেই, হয়তো ওখানে আমাদের ওপর চাপ চলে এসেছিল। যার করণে আমরা এটা ক্যারি করতে পারিনি। ক্যারি করতে না পারায়, পরে আমরা ২১ রানে হেরেছি। যদি মাঝখানে আমাদের একটা জুটি হতো, তাহলে এই ম্যাচটা আমাদের পক্ষেই থাকত।

সমস্যা–ঘাটতি কোথায়
আমি আগেই বলেছি, চোট একটা কারণ। আর সেট টিম থেকে আমরা সরে এসেছি। যাদের দিয়ে আমরা ওপেনিং করানোর কথা ছিল, তাদের আমরা পাইনি। মাঝখানে শান্তর চোটের কারণে দলের ওপর প্রভাব পড়েছে। ডেফেনেটলি বড় ইমপ্যাক্ট। ফলে টিম ব্যালেন্স করতে সমস্যা হয়েছে। আমরা মিরাজকে মেকশিফট ওপেনার হিসেবে খেলিয়েছি। আফগানিস্তানের ম্যাচের পর আবার বলেছিল, মিরাজ কেন ওপেনিংয়ে, ওকে নিচের দিকে নিয়ে এসো। যেহেতু আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভালো খেলেছে, এজন্যই পরেও ওপেনিং করানো হয়েছে। কোচ যেটা মনে করেছে যে, নাঈমও কয়েকটা ম্যাচ খেলছে, সে ম্যাচের মধ্যে আছে, সেই জায়গাটা কোচ পরিবর্তন করতে চায়নি। সেখানেই তাকে আরেকটা সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সামনের ম্যাচে মেকশিফট
সবসময়ই বসা হয় কোচের সঙ্গে। আলাদা করে বসার কোনো সুযোগ নেই। সবসময় কথা হয় দল নিয়ে। আপনি যখন বেস্ট একাদশটা নামান, তখন কলটা থাকে কোচ এবং অধিনায়কের। এখানে বাইরে কারো কল থাকে না। সুতরাং হয়তো অনেকে সাজেস্ট থাকতে পারি আমরা, কি ধরেন হতে পারে। কিন্তু ফাইনাল কল কোচ এবং অধিনায়কের। এজন্যই আগামীতে কি পরিবর্তন হবে না হবে, তারাই বলতে পারেন।

খারাপ সময়ে সাপোর্ট
কঠিনতো অবশ্যই হয়। আমার মনে হয় এই জায়গাটায় তাদের সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট দেওয়া উচিত। আমাদের থেকে তো তারা সাপোর্ট পাচ্ছেই। দেখেন, টিমের অনেকেই মনে করছে, টিম মোটিভেটেড কি না, এই ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। অবশ্যই মোটিভেটেড। খেলোয়াড়েরা যখন খেলে, তারা জানে যে হার–জিত আছে খেলোয়াড়দের। আজেকে আমি যদি ডিমোটিভেটেড হয়ে বসে থাকি, আগামী ম্যাচতো আমার সামনে। ম্যাচটায়তো আমাকে ভালো করতে হবে। ওজন্যই আমাদের সর্বদা মোটিভেটেড থাকতে হবে। টিম স্প্রিটটাও ঠিক থাকবে। সেদিক থেকে খেলোয়েড়েরা একতাবদ্ধ। তারা জানে কি কাজটা করা দরকার, এটা তারা ভালোভাবেই জানে। এজন্যই ক্রিকেটাররা লাইনচ্যুত হয়ে গেছে কী না, আমি দেখি না। উদাহারণস্বরূপ হচ্ছে যে, তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে। আজকে যেরকম কোচের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান আলোচনা ছিল। প্রতিটা প্লেয়ারের সঙ্গে, টিমি মিটিং ছিল। তারা আলাপ করেছে। সমস্যা নিয়ে কোচের সঙ্গে তারা আলাপ করেছে। তারাও কোচের কাছে শেয়ার করেছে। কি সমস্যা আছে তাও ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটার প্রতিফলন আগামী ম্যাচে আমরাদে দেখতে পাবো।

নিউজিল্যান্ড সিরিজে বিশ্রাম
হ্যাঁ, পরিকল্পনাটা এখন কোচ করেছে। টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলাপ আলাচনা করেই করেছে। ফিজিওদের সঙ্গে বসেছিল, কার কি অবস্থা। এমনি মোটামুটি সবাই ভালো আছে। দু একজন যেমন– শান্তর তো কিছু ইস্যু আছে। হ্যামস্ট্রিং তো খুব স্পর্শকাতর একটা জায়গা। তাকে নিয়েও চিন্তভাবনা আছে, নিউজিল্যান্ডে সিরিজে খেলবে কি খেলবে না। প্রশ্নচিহ্ন আছে অবশ্যই। ফিজিওর কাছ থেকে ২–৩ দিনের মধ্যে আমরা রিপোর্টটা পেয়ে যাবো। তবে সে উন্নতির মধ্যে আছে।

Link copied!