বিবিসি বাংলা
যাঁদের সঙ্গী আছে তাঁরা অনায়াসেই বিশেষ দিনগুলো নিজেদের মতো করে কাটাতে পারেন। কিন্তু যাঁদের নেই, তাঁরা? এবার তাঁদের দুঃখও ঘুচলো!
প্রেম, বন্ধুত্ব কিংবা ভালোবাসার খোঁজে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীদের ভরসাস্থল এখন ডেটিং অ্যাপ। এই প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে তরুণরা মনের মানুষ খুঁজে নিচ্ছেন। বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে হঠেছে ডেটিং অ্যাপ।
চিঠিপত্র, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বাইরে বহুদিন ধরেই নতুন সম্পর্ক তৈরির জন্য বিশ্বের বহু দেশে ডেটিং অ্যাপগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
গত কয়েক বছর ধরে সেই ঢেউ এসে লেগেছে বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েদের মধ্যেও। এখন অনেকেই এসব ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে সঙ্গী খুঁজতে শুরু করেছেন।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
কী ধরনের ডেটিং অ্যাপ রয়েছে
বাংলাদেশে এখন বেশ কয়েক ধরনের ডেটিং অ্যাপ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে।
এর মধ্যে বেশ কিছু অ্যাপ রয়েছে, যা বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। টিন্ডার, বাম্বল, ওকেকিউপিড- ইত্যাদি হলো বিনামূল্যের অ্যাপ।
বন্ধুত্ব তৈরি করা, নতুন সঙ্গী খুঁজে পাওয়া বা জীবন সঙ্গী খোঁজার জন্যই মূলত এসব ডেটিং অ্যাপ ব্যবহৃত হয়।
ইমেইল অ্যাকাউন্ট, টেলিফোন নম্বর, ছবি এবং ব্যক্তিগত তথ্য যোগ করে এসব অ্যাপে নিজস্ব একাউন্ট খোলা যায়। সেখানে নিজের আগ্রহের বিষয়গুলোও উল্লেখ করে দেয়া যেতে পারে।
এরপর আপনার সাথে মিলতে পারে, এমন সঙ্গীর পরামর্শ দেবে অ্যাপটি। ব্যবহারকারীদের ভেতর থেকে পছন্দের সঙ্গে মেলে, এমন সঙ্গীর পরামর্শ দিতে পারে এসব অ্যাপ। আবার নিজস্ব পছন্দ জানিয়ে সঙ্গী খোঁজাও যেতে পারে।
বাম্বলের মতো কোন কোন অ্যাপে মেয়েদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে। এখানে কাউকে পছন্দ হলে মেয়েদের আগে বার্তা পাঠাতে হয়। পরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই বার্তার জবাব পাওয়া গেলে সংযোগ তৈরি হয়, না হলে সেটি মুছে যায়।
সাধারণত ডেটিং অ্যাপে বার্তা বিনিময়ের মাধ্যমে পরিচয়, আলাপচারিতার পর ফোন নম্বর বিনিময় বা দেখা-সাক্ষাতের প্রসঙ্গ আসতে পারে।
অনেক সময় মিথ্যা পরিচয় বা তথ্য গোপন করেও এসব ডেটিং সাইটে একাউন্ট খোলা হয়। ভারতসহ অনেক দেশে এসব ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগও উঠেছে।
ফলে সম্পর্ক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সঙ্গীর দেয়া তথ্য যাচাই করে নেয়া ভালো।
কিন্তু আলাপ করার বা দেখা করার পর সম্পর্ক হবে কিনা, সেই সম্পর্কের পরিণতি কি হবে, সেসব নির্ভর করে দুজনের মধ্যে।
কেন ডেটিং অ্যাপের দিকে ঝুঁকছে তরুণ-তরুণীরা
বাম্বল এবং টিন্ডার ব্যবহারকারী মিজান (ছদ্মনাম) বলছিলেন, চাকরি-বাকরি নিয়ে ব্যস্ততার কারণে সামাজিক মেলামেশা বেশি একটা হয় না। তাই বন্ধু খোঁজার জন্যই তিনি এসব অ্যাপ ব্যবহার করতে শুরু করেছেন। এজন্য কারও ওপর নির্ভর করতে হয় না, নিজেরাই নিজেদের মতো বন্ধু খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।
তিনি এখনো ছেলেদের তুলনায় ডেটিং অ্যাপগুলোয় অংশ নেয়া মেয়েদের সংখ্যা কম বলে তিনি মনে করেন।
সমাজবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, বিশ্বায়নের প্রভাবে একেকটা গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে সমাজ যেহেতু পরিবর্তনশীল, আমাদের সমাজেও আস্তে আস্তে অনেক পরিবর্তন আসছে।
তিনি বলছিলেন, পশ্চিমা বিশ্বে ৩০/৩৫ বছর আগে থেকে এটা চালু হয়েছে। সেখানে অ্যাপসের মাধ্যমে চেনাজানা হয়, সম্পর্ক তৈরি হয়।
‘’আমাদের সমাজে হয়তো সেরকম উদার হয়নি। যদিও ডেটিং অ্যাপ বলা হয়, কিন্তু এখনো তারা কতটা যেতে পারে, তা নিশ্চিত নয়। কারণ আমাদের সোসাইটি অতটা বিচ্ছিন্ন নয়। এখনো এখানে নিজেরা না পারলে পরিবার সঙ্গী খুঁজে দেয়। হয়তো সেজন্য এখনো প্রবল জনপ্রিয় হয়নি। তবে সমাজের একটা অংশ হয়তো এতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। তারা হয়তো সঙ্গী খুঁজে বের করার একটা নতুন মাধ্যম হিসাবে একে দেখছে,’’ তিনি বলছেন।
একটা সময়েও জুটি বা সঙ্গী তৈরিতে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন ‘ঘটক’রা।
এখন সেই জায়গা করে নিয়েছে ম্যাচ-মেকিং প্রতিষ্ঠান। সেই তালিকায় নতুন যোগ হচ্ছে এসব ডেটিং অ্যাপ। প্রযুক্তি আর মোবাইল ফোনের সহজলভ্য হয়ে ওঠায় আরও বিশেষত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এ জাতীয় অ্যাপ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।